ঈদের দিন মহিলাদের আমল, ঈদের দিন রোজা রাখা কি হারাম?
কারণ এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা আপনাদের জানাবো ঈদের দিন মহিলাদের আমল কি কি
করতে হয় কিভাবে পড়বে ও এই দিনে কি রোজা রাখা যাবে কিনা ও এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে
বিস্তারিতভাবে আপনাদের জানাবো।
পেইজ সূচিপত্রঃ ঈদের দিন মহিলাদের আমল, ঈদের দিন রোজা রাখা কি হারাম?
- ঈদের দিন মহিলাদের আমল, ঈদের দিন রোজা রাখা কি হারাম?
- ঈদের দিন রোজা রাখা যাবে কিনা
- ঈদের দিন মহিলাদের আমল কি কি
- ঈদের দিন গোসল করা কি ধরনের জায়েজ
- ঈদের দিনের ফজিলত
- উপসংহারঃঈদের দিন মহিলাদের আমল, ঈদের দিন রোজা রাখা কি হারাম?
ঈদের দিন মহিলাদের আমল, ঈদের দিন রোজা রাখা কি হারাম?
ঈদের দিন মহিলাদের আমল, ঈদের দিন রোজা রাখা কি হারাম? পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত এক বিশেষ উপহার। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর নিয়ে আসে অফুরন্ত আনন্দ ও সওয়াবের বার্তা। মহিলাদের জন্য ঈদের দিনটি একদিকে যেমন পরিবারের সেবা ও মেহমানদারির মাধ্যমে কাটানোর সুযোগ, অন্যদিকে বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে রবের সন্তুষ্টি অর্জনেরও এক অনন্য মাধ্যম।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন নামাজের পর মহিলাদের নিকট গিয়ে উপদেশ দিলেন এবং দান-সদকা করার নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলারা তাদের কানের দুল ও গলার হার বেলাল (রা.)-এর কাপড়ে সদকা হিসেবে নিক্ষেপ করতে লাগলেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৯৫৮)
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দুই দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ১৯৯২)
ঈদের দিন রোজা রাখা যাবে কিনা
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত দুটি বিশেষ উৎসবের দিন। এই দিনগুলো মূলত আনন্দ প্রকাশ, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত ভোগ করার জন্য নির্দিষ্ট। ইসলামের বিধানে ইবাদত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আল্লাহ যে সময়গুলোতে আনন্দ করতে বলেছেন, সেই সময়ে আনন্দ করাও ইবাদতের অংশ। তাই ঈদের দিনটিকে ইবাদতের মনে করে রোজা রাখা বা কৃচ্ছ্রসাধন করা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।
আরো পড়ুনঃ হাদিস ও কুরআন অনুযায়ী কুরবানী ঈদের আমল ও নামাজের নিয়ম
ইসলামী শরিয়তে বছরের পাঁচটি দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন। এই দিনগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য বিশেষ দাওয়াত বা মেহমানদারির দিন হিসেবে গণ্য হয়।
সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিসঃ
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর রমজানের পরবর্তী ঈদ এবং ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ এই দুই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১৯৯২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৮২৭)
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনাঃ ওমর (রা.) একবার ঈদের দিন ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন
হে লোকসকল রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দুই দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো তোমাদের রোজা (রমজান) খোলার দিন (ঈদুল ফিতর), আর অন্যটি হলো তোমাদের কোরবানির গোশত খাওয়ার দিন (ঈদুল আজহা)। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
ঈদের দিন মহিলাদের আমল কি কি
ঈদের দিনটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ পুরস্কারের দিন। মহিলারা ঘরে অবস্থান করেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের মাধ্যমে এই দিনটিকে সওয়াব ও বরকতময় করে তুলতে পারেন।
নিচে মহিলাদের জন্য ঈদের দিনের প্রধান আমলগুলো ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হলো:
ঈদের দিন সকালে সুন্নতি তরিকায় সুন্দর করে গোসল করা। এটি পবিত্রতা ও সজীবতার প্রতীক।
সাধ্যের মধ্যে উত্তম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন পোশাকটি শরীয়তের পর্দার বিধান লঙ্ঘন না করে।
ঈদুল ফিতরের দিন সকালে নামাজের আগে বিজোড় সংখ্যক ১টি, ৩টি বা ৫টি খেজুর বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া সুন্নত। তবে ঈদুল আজহার দিন নামাজের আগে কিছু না খেয়ে নামাজ বা কোরবানির পর প্রথম খাবার খাওয়া উত্তম।
ঈদের দিন সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে বেশি বেশি তাকবির পাঠ করা মহিলারাও করতে পারেন। নিজের ঘরে বা আপনজনদের মাঝে নিচু স্বরে এটি পাঠ করবেন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিনে মহিলাদের বিশেষ করে দান-সদকা করার নসিহত করেছেন। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অভাবী মানুষকে কিছু টাকা বা খাবার সাহায্য করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করা, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং সাধ্যমতো মেহমানদারি করা। এটি ইসলামের অন্যতম সামাজিক আমল।
একে অপরের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা। সাহাবায়ে কেরামরা যেভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন তা হলো তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম অর্থ: আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।
ঈদের আনন্দের আতিশয্যে যেন পর্দার খেলাপ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। গায়রে মাহরাম (যাদের সাথে বিয়ে বৈধ) পুরুষদের সামনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা।
ঈদের দিন অনেক সময় গান-বাজনা বা বেপর্দা চলাফেরার মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করা হয়, যা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। আনন্দ হবে কেবল হালাল উপায়ে, আল্লাহর নাফরমানি করে নয়।
.webp)
.webp)
অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url