পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ
পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ খুঁজতে গেলে শুধু পোনা ও খাবারের পরিমাণই নয়, আপনাকে ডুব দিতে হবে আপনার পুকুরের পানির অদৃশ্য রসায়ন সম্পর্কে। আপনার অজান্তেই পুকুরের তলদেশে বিষাক্ত পদার্থগুলো হয়ে উঠছে মাছের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমরা আপনার চোখ খুলে দিব। কিভাবে পানির পিএইচ,
প্রাকৃতিক প্লাঙ্কটনের ঘাটতি, পরজীবীর আক্রমণ এবং ভুল মজুদ কৌশল মিলে তৈরি
করে এক অদৃশ্য বাধা। যা আপনার পরিশ্রমকে প্রতিদিন ধংস করছে।
পেজ সূচিপত্রঃ পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ
-
পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ
-
পানির গুনাগুন ও পিএইচ মাত্রার ভারসাম্যহীনতা
-
পুকুরে পানির নিচে অক্সিজেনের অভাব
-
প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাব ও প্ল্যাংকটন সংকট
-
অতিরিক্ত মজুদ ঘনত্ব ও প্রতিযোগিতা
-
অপর্যাপ্ত বা অনুপযুক্ত সম্পূরক খাবার
-
পুকুরের গভীরতা ও পরিবেশগত সমস্যা
-
মাছ চাষে বংশগত দুর্বল পোনার ব্যবহার
-
পানি দূষণ ও বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি
-
শেষ কথাঃ পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ
পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ
পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে না পারলে সমস্ত শ্রম, সময় ও বিনিয়োগ বৃথা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এটি চিন্তার কোন বিষয় নয়। কারণ এই সমস্যার পেছনে বেশকিছু নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। যা চিহ্নিত করে সমাধান করা সম্ভব। এই সমস্যার প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে তাহলে পানির গুনাগুন মান। আপনি হয়তো জানেন না আপনার পুকুরের পানির পিএইচ মাত্রা হয়তো মাছের বৃদ্ধির জন্য অনুপযুক্ত। মাছের বেঁচে থাকা ও বড় হওয়ার জন্য পানির পিএইচ ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে থাকা আবশ্যক।
আরো পড়ুনঃ প্রতিদিন ভোর ৫ টায় ওঠার অভ্যাস করার বাস্তব কৌশল
এর কম বা বেশি হলে মাছ খাবার ঠিকমতো হজম করতে সক্ষম হয় না। ফলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধিতে ব্যাহত ঘটে। এছাড়া পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘাটতি একটি নীরব ঘাতক। রাতে বা ভোর বেলা যখন পানির অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়, তখন মাছ চাপে পড়ে এবং তাদের বিভাগীয় ক্রিয়া বৃদ্ধি হয়ে যায়। যা সরাসরি মাছের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। ফলে মাছ পুষ্টিহীনতায় ভোগে এবং তাদের বৃদ্ধি থেমে যায়।
পানির গুনাগুন ও পি এইচ মাত্রার ভারসাম্যহীনতা
পুকুরে মাছ বড় হওয়ার সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পানির গুনাগুন মান এবং এর কেন্দ্রে রয়েছে পিএইচ মাত্রা। পি এইচ হল পানির অম্লত্ব বা ক্ষারত্যের একটি মাপকাঠি। মিঠা পানি মাছ চাষ এর জন্য উপযোগী। পুকুরের পানির পিএইচ মাত্রা হলো ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে। যদি পিএইচ ৬.৫ এর নিচে নেমে যায় অথবা ৮.৫ এর ওপরে ওঠে। তাহলে মাছের বৃদ্ধি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। অম্লীয় পানিতে মাছের খাদ্য গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়। শ্বাসকার্যে সমস্যা হয় এবং তাদের বিভাগীয় প্রক্রিয়া ভিড় হয়ে পড়ে।
মাছ বৃদ্ধি না হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ কাজ করে। পুকুরের তলদেশে জমে থাকা কর্দম ও জৈব বর্জ্য পচে গিয়ে এসিড তৈরি করতে পারে। অথবা অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগ বা ভুল ধরনের চুন ব্যবহারের ফলেও পানির পিএইচ অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আবার বৃষ্টির পানি বা আশেপাশের কৃষি জমে থাকা আসা পানির সাথে রাসায়নিক মিশেও পানির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই অবশ্যই পুকুরে মাছের বড় না হওয়ার সমস্যাটিকে সমাধান করতে হলে, পিএইচকে অবহেলা করলেই চাষীকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে।
পুকুরে পানির নিচে অক্সিজেনের অভাব
পুকুরে মাছের শ্বাস প্রশ্বাস খাদ্য পরিপাক ও শক্তি উৎপাদনের জন্য পানিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন থাকা অত্যন্ত জরুরী। পুকুরে মাছ গুলোর মধ্যে অক্সিজেনের স্বল্পতা একটি নীরব কিন্তু ভয়ঙ্কর সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। সাধারণত মাছ চাষের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ৫ মিলিগ্রাম লিটার বা তার বেশি থাকা প্রয়োজন। যদি এটি তিন মিলিগ্রাম লিটারের নিচে নেমে আসে, তাহলে মাছ মানসিক ভাবে চাপে পড়বে।
ফলে তারা খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের বৃদ্ধি থেমে যায়। আরো কমে গেলে মাছ মারাও যেতে শুরু করে। পানিতে অক্সিজেনের অভাব হয় নানা কারণে। পুকুরে মাছের ঘনত্ব বেশি হলে, তাদের শ্বাস প্রশ্বাসের চাহিদা বেড়ে যায়। রাতে জলজ উদ্ভিদ গুলো সালোক সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয় এবং তারা নিজেরাই অক্সিজেন গ্রহণ করতে শুরু করে।
ফলে ভোর বেলায় অক্সিজেনের মাত্রা সবচেয়ে কম থাকে। এছাড়া পুকুরের পানিতে অতিরিক্ত জৈব বর্জ্যো জমে। সেগুলো পচনের জন্য ব্যাকটেরিয়া প্রচুর অক্সিজেন ব্যবহার করে। যা পানির অক্সিজেন স্তর কমিয়ে দেয়। গরম কালে তাপমাত্রা বেড়ে গেলেও পানিতে অক্সিজেন ক্ষমতা কমে যায়।
প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাব ও প্ল্যাংকটন সংকট
প্রাকৃতিক খাদ্য বা পুকুরের স্বয়ং সম্পূর্ণ খাবার মাছের প্রাথমিক বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি ভারতীয় মাছের কার্ভ জাতের মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুকুরে মাছ চাষের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্যের অভাবকে খুব কম চাষীরাই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। পুকুরের পানিতে ফাইটো প্লাঙ্কটন ও জু প্লাংটন নামক এর পর্যাপ্ততা মাছের দ্রুত বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। এই প্ল্যাঙ্কটন মাছের সরাসরি খাদ্য এবং পুকুরের খাদ্য শৃঙ্খলের মূল ভিত্তি।
প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি না হওয়ার কারণ গুলো হলো পুকুরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব। পর্যাপ্ত সূর্যালোক না করা বা পানির পি এইচ ও অন্যান্য রাসায়নিক অবস্থা প্লাংটন বৃদ্ধির অনুকূলে না থাকা। অনেক সময় অতিরিক্ত শ্যাওলা বা অপ্রয়োজনীয় জল উদ্ভিদ প্লাঙ্কণ্টনের বৃদ্ধিতে বাধা দিয়ে থাকে। কারণ তারা সূর্যালোক ও পুষ্টি উপাদান নিজেরাই শাসন করে নেয়। পুকুরের পানির রং হালকা সবুজ বা বাদামি হওয়া উচিত। যা পুকুরের পানিতে প্লাংটন সমৃদ্ধির মূল লক্ষ্য।
অতিরিক্ত মজুদ ঘনত্ব ও প্রতিযোগিতা
পুকুরের মাছ বড় না হওয়ার মধ্যে একটি খুবই সাধারণ কিন্তু গুরুতর ভুল হল পুকুরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সংখ্যক পোনা মজুদ করা। অনেক চাষীরাই ধারণা করেন যে, যত বেশি পোনা তত বেশি মাছ উৎপাদন। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। তাদের এ ধারণাটি একদমই ভুল। একটি পুকুরের নির্দিষ্ট খাদ্য, অক্সিজেন ও বসবাসের জায়গার একটি সীমিত ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। যদি সেই সীমা অতিক্রম করে পোনা মজুদ করা হয়। তাহলে প্রতিটি মাছ পর্যাপ্ত খাবার পায় না। পর্যাপ্ত বরধনের জায়গাও পায় না এবং পানির অক্সিজেন দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
ফলে মাছ পরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং তাদের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়। প্রতিযোগিতা শুধু খাবারের জন্যই হয় তা না, অক্সিজেনের জন্য হয়। ঘন মজুদের কারণে মাছ গুলোর মধ্যে আচরণগত চাপ তৈরি হয়। যা তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বাধা প্রদান করে। ছোট আকারের পুকুরে বড় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিপুল সংখ্যক পোনা ছাড়া একটি মারাত্মক ব্যবস্থাপনা গত ত্রুটি। এছাড়াও বেশি ঘনত্বের কারণে পানি দূষণ ও দ্রুত হয়ে থাকে। কেননা মাছের মল ও খাবারের পরিমাণ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যায়।
অপর্যাপ্ত বা অনুপযুক্ত সম্পূরক খাবার
প্রাকৃতিক খাবারের পাশাপাশি মাছের দ্রুত ও স্বাস্থ্যকর বৃদ্ধির জন্য সম্পূরক খাবার দেওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে যখন পুকুরে মাছের ঘনত্ব বেশি থাকে। অনেক চাষী মনে করেন শুধু চালের গুড়া বা গমের ভুষি দিলেই মাছের খাবারের চাহিদা মিটে যায়। কিন্তু মাছের শরীর গঠন, রোগ প্রতিরোধ ও সঠিক বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলসের প্রয়োজন। শুধু শর্করা জাতীয় খাবার দিলে মাছের ওজন বাড়লেও তা হবে ফাঁপা।
আরো পড়ুনঃ বাচ্চা নেওয়ার আগে পুরুষের করনীয়
বা মাছ রোগে খুব সহজে আক্রান্ত হবে। আবার অনেক সময় খাবার দেওয়া হয় ঠিকই, কিন্তু মাছের সংখ্যা ও বয়স অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা হয় না। কম খাবার দিলে মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রতিযোগিতার কারণে সব মাছ সমানভাবে খাবার পেয়ে থাকে না। বেশি খাবার দিলে তা পানিতে পড়ে পানির গুনাগুন মান নষ্ট করবে এবং অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করবে। খাবার দেওয়ার সময়ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় মাছেরা সক্রিয় থাকে। তাই এই সময়ে খাবার দেওয়া উচিত।
পুকুরের গভীরতা ও পরিবেশগত সমস্যা
পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে পুকুরের ভৌত কাঠামো ও পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখা খুবই জরুরী। পুকুরের গভীরতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক গ্রামীণ পুকুরই মাত্র তিন চার ফুট গভীর করে পানির তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হয়। গরমে খুব গরম ও শীতে খুব ঠান্ডা হয়ে পড়ে। যা মাছের বৃদ্ধির জন্য বিরূপ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এছাড়াও অগভীর পুকুরে মাছের সাঁতরানোর ও বসবাসের জায়গা খুবই কম থাকে এবং শিকারি পাখিদের আক্রমণের ঝুঁকিও অনেক হারে বৃদ্ধি পায়। পরিবেশগত সমস্যার মধ্যে আরও আছে পুকুরের তলদেশের অবস্থা।
যদি তলদেশ অতিরিক্ত কাদা ও জৈব পদার্থ জমানো থাকে, তাহলে সেগুলো পচনের সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়ায় বা তৈরি করে। যা মাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর। পুকুর যদি এমন জায়গায় হয় যেখানে সার বা কীটনাশক মিশ্রিত পানি পড়ে। তাহলে তা সরাসরি পানিকে দূষিত করে এবং মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। পুকুরের চারপাশে অতিরিক্ত গাছপালা থাকলে তা থেকে পড়া পাতা পানিতে পচে একই সমস্যা তৈরি করতে পারে। অবশ্যই পুকুরে মাছ বড় না হওয়ার সমস্যাটি বিবেচনা হিসেবে এই পরিবেশগত বিষয়গুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।
মাছ চাষে বংশগত দুর্বল পেনার ব্যবহার
মাছের ভালো বৃদ্ধির ভিত্তি হলো সুস্থ সবল ও ভালো বংশগত বৈশিষ্ট্য। পোনা মাছ চাষের সমস্যার মধ্যে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে সেই প্রাথমিক পর্যায় যখন আপনি মাছের পোনা সংগ্রহ করেন। যদি পোনা গুলো দুর্বল রোগাক্রান্ত বা নিকৃষ্ট বংশ থেকে আসে। তাহলে সেগুলো কখনোই দ্রুত বড় হয়ে উঠবে না। এমনকি ভালো পরিবেশ ও খাদ্য পেলেও না। অনেক হ্যাচারিতে প্রজননকারী মাছ বারবার ব্যবহার করা হয়। যার ফলে জিনগত দুর্বলতা আসে এবং পোনার বৃদ্ধির ক্ষমতা কমে যায়।
মাছ দুর্বল হওয়ার লক্ষণ গুলো হলো অস্বাভাবিক রং, শরীরের অভাব বা ক্ষত। ফুলকায় অস্বাভাবিকতা শ্বাসকষ্ট এবং সাধারণ নিষ্ক্রিয়তা। এ ধরনের পোনা পানিতে ছাড়ার পর তারা নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না। দ্রুত রোগে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায়। যেগুলো বাচে সেগুলোর বৃদ্ধি ও হয় হামাগুড়ির গতির। পুকুরের মাছ বড় না হওয়ার সমস্যাটির কারণ সনাক্ত করতে হলে, পোনার উৎস ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।
পানি দূষণ ও বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি
পুকুরের পানিতে কোন প্রকার বিষাক্ত রাসায়নিক বা ভারী ধাতুর উপস্থিতি মাছের বৃদ্ধিতে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি করে এবং প্রায়ই পুকুরে মাছ বড় না হওয়ার সমস্যার কারণ হিসেবে এটি কাজ করে থাকে। এই দূষণ আসতে পারে আশে পাশের শিল্প কারখানার বজ্র পদার্থ থেকে। কৃষি জমির অতিরিক্ত সার, কীটনাশক থেকে বা এমন কি গৃহস্থালি বজ্র থেকে। বিষাক্ত পদার্থ যেমন অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন সালফেট কিংবা ভারী ধাতু। যেমন সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম এগুলো মাছের ফুলকা, লিভার ও কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। খাদ্য গ্রহণ ও বিপাকীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইট এর মত বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। পুকুরের তলদেশে জমে থাকা মাছের মল, অবহেলিত খাবার ও অন্যান্য জৈব বস্তু পচনের ফলে বিশেষ করে যখন পানিতে অক্সিজেনের অভাব হয়। তখন এই পচন প্রক্রিয়া বিষাক্ত গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। লক্ষণ হিসেবে মাছ পানির উপরিভাগে ভেসে থাকবে। লক্ষণ হিসেবে মাছ পানির উপরিভাগে মিশে থাকবে। ফুলকা বাদামি বা কালচে দেখাবে এবং কোন ধরনের খাবারে আগ্রহ দেখাবে না। পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ হিসেবে এই বিষাক্ত প্রায়শই ধরা পড়ে না।
শেষ কথাঃ পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারন
পুকুরে মাছ না বড় হওয়ার কারণ নিয়ে এই ব্যাপক আলোচনার শেষ কথাটি হলো সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। মাছ চাস কেবল খাবার দিলেই হয়ে যায় না। এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত ও যত্নসাধ্য প্রক্রিয়া। আপনার পুকুরের প্রতিটি উপাদান, পানির প্রতিটি গুণ, মাছের প্রতিটি আচরণের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সমস্যা দেখা দিলে তার গোড়ায় যেতে হবে, লক্ষণগুলো বুঝতে হবে। আমরা দেখেছি মাছ না বড় হওয়ার পেছনে এক ডজনরও বেশি কারণ থাকতে পারে। যা প্রায়ই আমাদের অগোচরে থেকে যায়।
পুকুরে মাছ বড় না হওয়ার প্রত্যেকটি কারণ জানা এবং তা মোকাবেলা করার মাধ্যমে আপনি শুধু উৎপাদনই বাড়াতে পারবেন না। আপনার পুকুরটিকেও একটি টেকসই ও স্বাস্থ্যকর জল বস্তু তন্ত্রের রূপান্তরিত করতে পারবেন। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন একটি সুস্থ পুকুরেই কেবল সুস্থ মাছ বড় হতে পারে। তাই আজ থেকেই আপনার পুকুরের দিকে নতুন দৃষ্টিতে নজর রাখুন, তার প্রয়োজনে সারা দিন এবং দেখুন কিভাবে আপনার পরিশ্রমের ফল সার্থক হয়ে ধরা দেয়। রূপলী আসে ভরা একটি সমৃদ্ধ পুকুর হয়ে উঠবে আপনার পুকুর।



অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url