লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম
অনলাইনে নিরাপদ থাকার জন্য সেরা সাইবার সিকিউরিটি টিপস লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম সম্পর্কে অনেকের জানেন না। আজকে আমি
আপনাদেরকে লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম এবং লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করার
সকল নিয়ম এবং টিপস নিয়ে আলোচনা করব।
কারণ লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করা
পেশাদারদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখানে আরো থাকবে লিংকডইন একাউন্টের
মাধ্যমে নেটওয়ার্ক বিস্তার ও ক্লায়েন্টদের নজরকারা প্রোফাইল।
পেজ সূচিপত্রঃ লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম
- লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম
- প্রফেশনাল প্রোফাইল ছবি ও ব্যানার নির্বাচন
- হেডলাইন এবং সারসংক্ষেপে কিওয়ার্ড ব্যবহার
- অভিজ্ঞতা ও পদবী সঠিকভাবে এন্ট্রি করা
- স্কিল ও এনডোর্সমেন্ট যুক্ত করার কৌশল
- রেকমেন্ডেশন সংগ্রহ এবং প্রদর্শনের নিয়ম
- প্রোফাইল URL কাস্টমাইজ করা
- Education ও certificate অপটিমাইজ করা
- নিয়মিত আপডেট এবং কনটেন্ট শেয়ার করে প্রোফাইল শক্তিশালী করা
- সর্বশেষ কথা
লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম
লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম জানতে হলে প্রথমে লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি
করার প্রসেস সম্পর্কে জানা লাগবে। লিংকডইন প্ল্যাটফর্ম মূলত এক ধরনের আন্তর্জাতিক
প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি নিজের কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও শিক্ষা বিষয়ে নিয়ে
আপনার সিভি তৈরি করতে পারবেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও ক্লাইন্টরা এখানে
প্রোফাইল দেখে চাকরি দিয়ে থাকে। প্রোফাইল তৈরি করার জন্য কিছু ধারাবাহিক নিয়ম
আছে।
- প্রথমে আপনাকে প্রফেশনাল প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করতে হবে যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রফেশনাল লুক বলতে পরিষ্কার, হাসিমুখ ও ফরমাল পোশাক পরিধান করাকে বুঝানো হয়েছে। প্রফেশনাল প্রোফাইল আপনার প্রথম ইমপ্রেশনকে শক্তিশালী করে।
- তারপরে আপনাকে সেখানে হেডলাইন ক্লাইন্টকে আশুধুণ করে এমন ভাবে লিখতে হবে। আপনার শুধু দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিলে হবে না বরং এখানে আপনার টার্গেট কিওয়ার্ড যুক্ত করতে হবে।
- এখানে আরেকটা সেকশন আছে যেখানে আপনার বায়ো দেওয়া লাগবে। অর্থাৎ আপনি কে, আপনি কি কাজে দক্ষ ও আপনার অভিজ্ঞতা ও সাফল্য এখানে তুলে ধরতে হবে।
- বায়ো সেকশনের পরে আরেকটি সেকশন থাকবে যেখানে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা এবং সে অভিজ্ঞতা থেকে সফলতার ব্যাখ্যা বিস্তারিত ভাবে দিতে হবে। যেন ক্লাইন্ট দেখে বুঝতে পারে, আপনি কোন কাজে দক্ষ।
- তারপর পরবর্তী ধাপে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তিনটায় স্কিলের অপশন থাকবে। যেখানে আপনাকে আপনার স্কিল গুলো মেনশন করতে হবে ও পরিচিতদের দিয়ে এনরোয়েজমেন্ট করতে হবে।
- স্কিলের অপশনের পরে রেকমেন্ডেশনের জন্য একটি অপশন থাকবে। যেখানে আপনি আপনার আগের কাজে বসের সুপারিশ থাকবে। যেটা আপনাকে ভবিষ্যতে কাজ পেতে অনেক সাহায্য করবে।
লিংকডইন প্রোফাইল ভালো ভাবে অপটিমাইজ করতে হলে উপরের নিয়ম মেনে প্রোফাইল ভালোমতো
তৈরি করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি ওপরের নির্দেশনা গুলো পরিপূর্ণভাবে মেনে কাজ করেন তবে খুব সহজেই আপনার লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইস করতে পারবেন।
প্রফেশনাল প্রোফাইল ছবি ও ব্যানার নির্বাচন
প্রফেশনাল প্রোফাইল ছবি ও ব্যানার তৈরি করতে হলে আমি মনে করি কয়েকটি বিষয়
ভালোমতো খেয়াল রাখা উচিত। প্রথমে আপনি আপনার প্রোফাইল ছবি যেটা আপলোড করবেন,
সেটা যেন অবশ্যই পরিষ্কার এবং হাই রেজুলেশন এর ছবি হয়। কারণ মুখ স্পষ্টভাবে বুঝে
না গেলে এবং ছবিতে আবছা দেখা গেলে ক্লাইন্টরা সেটাকে অদক্ষ বলে মনে করে থাকে।
সেজন্য আমি মনে করি প্রোফাইল ছবিটা সব সময় ক্লিয়ার এবং হাই কোয়ালিটি রাখা
উচিত। এই প্রোফাইল ছবি আপনার প্রথম ইমপ্রেশন হিসেবে কাজ করে, যা পরবর্তীতে
ক্লাইন্টকে আকৃষ্ট করে। তারপরে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড এ একটা ফরমাল লুক থাকতে হবে।
আরও পড়ুনঃ মোবাইল আসক্তি কমানোর ১০টি কার্যকর কৌশল
অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি ব্যাকগ্রাউন্ডে অফিস টাইপের অবস্থা থাকা লাগবে। যেটা
আপনার একাউন্টে একটা অন্য লেভেলে নিয়ে যাবে। ব্যাকগ্রাউন্ডের সব সময় সাদা ও লাইট গ্রে কালারের হতে হবে। প্রোফাইল ছবি যদি আকর্ষণীয় করতে চান
তাহলে আপনার চেহারায় একটা হালকা হাসি থাকা লাগবে, যা আপনার ব্যক্তিত্বকে
উপস্থাপন করে ক্লায়েন্টের কাছে। তবে আরেকটা বিষয় আমি গুরুত্ব দিয়ে বলবো সেটা
হলো ড্রেস কোড সবসময় নির্বাচন করবেন ফরমাল লুক অর্থাৎ কোট এবং সাদা শার্ট।
তারপরে ব্যানারে আপনার কাজের ধরন টাকে ক্লায়েন্ট এর কাছে উপস্থাপন করার জন্য
কিছু আইকন আছে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। যেমন আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটার হন
তাহলে সেটার আইকন ব্যবহার করতে হবে। দরকার হলে সেটা ডিজাইন করে ব্যবহার করবেন।
তবে ব্যানারে এমন কালার ব্যবহার করবেন যেটার অর্থ আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংকে
প্রদর্শন করে। এভাবে করে আপনি আপনার প্রোফাইল ছবি ও ব্যানার সুন্দরভাবে বেছে নিতে
পারবেন।
হেডলাইন এবং সারসংক্ষেপে কিওয়ার্ড ব্যবহার
হেডলাইন ও সারসংক্ষেপ এ দুইটা অপশন মূলত আপনার কাজের দক্ষতা এবং আপনার কাজের
ধরনকে ক্লায়েন্টের কাছে দেখায়। এখানে আপনি ওই সকল স্কিল এবং দক্ষতা নিয়ে
বলবেন, যেগুলোতে আপনি এক্সপার্ট। যেমন ধরেন আমি ডিজিটাল মার্কেটিং করি ও SEO
নিয়ে কাজ করি। তাহলে আমি হেডলাইন এবং সারসংক্ষেপে Digital Marketer ও SEO expert
লিখব। তাহলে ক্লাইন্ট আমার প্রোফাইলে ঢুকলে আমার স্ক্রিল সম্পর্কে জানতে পারবে।
তবে আপনাকে সবসময়ই খোজের মধ্যে থাকতে হবে ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক কিওয়ার্ড। যদি
আপনি এই কীওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করেন তাহলে যারা চাকরি দেয় অর্থাৎ
রিক্রুটার তাদের আপনাকে খুঁজতে সহজ হয়। আরেকটা টিপস আমি আপনাদেরকে বলবো সেটা হলো
হেডলাইনে সব সময় প্রিমিয়াম টাইপের শব্দ ব্যবহার করবেন।
অর্থাৎ সহজ শব্দ যেমন
hard worker কিংবা Passionate মতো শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। পরবর্তীতে
সারসংক্ষেপে আপনি যে সকল কাজ করেন এবং যে সকল কাজের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেছেন।
সে সকল কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ফলাফল সারসংক্ষেপে দিবেন। এটা করার ফলে ক্লাইন্ট
আপনার ফলাফল দেখে আন্দাজ করতে পারে যে আপনি বাস্তব নাকি কাল্পনিকভাবে সারসংক্ষেপে
আপনার দক্ষতা উপস্থাপন করছেন। এই হেডলাইন এবং সারসংক্ষেপ ভালোমতো সেট করার পরে,
কিছু কিওয়ার্ড যুক্ত করবেন। আপনি যে কাজ করতে চান বা যে কাজ আপনি খুঁজছেন সে কাজ
সম্পর্কিত কিওয়ার্ড ব্যবহার করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে করে আপনি হেডলাইন ও
সারসংক্ষেপে কিওয়ার্ড সুন্দরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।
অভিজ্ঞতা ও পদবী সঠিকভাবে এন্ট্রি করা
লিংকডইন প্রোফাইলে অভিজ্ঞতা এবং পদবী সঠিকভাবে এন্ট্রি করার নিয়ম যদি না জানা
থাকে তাহলে এটি একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলে আপনার প্রোফাইলে। এই এন্ট্রি করার
কিছু পদ্ধতি নিয়ে আমি আপনাদেরকে ধারণা দিব। প্রোফাইলে প্রথমে আপনাকে ঠিক পদবী
লিখতে হবে। যেমন আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটার হন তাহলে আপনার ইন্ডাস্ট্রির সাথে
মিল রেখে আপনাকে পদবি দেওয়া লাগবে। ডিজিটাল মার্কেটিং এটি হলো ইন্ডাস্ট্রি আর
ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিস্ট এটি হলো পদবী। তবে আমার ধারণা মতে কোম্পানির নাম
সব সময় সঠিকভাবে এন্ট্রি করবেন। এটা এক ধরনের প্রফেশনাল অবস্থান বহন করে। তারপর
আপনি কি রকম কাজ করতে চান অর্থাৎ ফুল টাইম নাকি হাফ টাইম এটা ভালো মতো করে উল্লেখ
করে দিতে হবে আপনার প্রোফাইলে।
তবে এই দুটো বাদে আরো একটা অপশন আছে যেমন
ইন্টার্নশিপ। এই তিনটা পয়েন্টের মধ্যে যেকোনো একটা পয়েন্ট আপনি আপনার পছন্দমত
দিয়ে আপনার প্রোফাইলে যুক্ত করতে পারেন। এতে ক্লাইন্টরা বুঝতে পারে যে আপনি
তাদের কোম্পানিতে কিভাবে কাজ করতে চান। এরপর আপনার কাজের দক্ষতা নিয়ে কিছু
বক্তব্য দেন। অর্থাৎ আপনি এভাবে বলতে পারেন "ওয়েবসাইটে আপনি ১০০% ট্রাফিক নিয়ে
আসতে পারবেন ছয় মাসের মধ্যে"এভাবে করে যদি আপনি বলেন তাহলে সেটা আপনার জন্য একটা
পেশাদার ফ্রিল্যান্সারের পরিচয় বহন করে। এছাড়াও অন্যান্য কিওয়ার্ড ব্যবহার
করতে পারেন যেগুলো আপনার কাজের field এর সাথে সম্পর্কিত। আপনার কাজের দৃঢ়তা
বজায় রাখুন অর্থাৎ যেরকম আপনি আপনার প্রোফাইলে বলছেন ঠিক সেভাবে করে যেন কাজ
করতে পারেন সেটা সব সময় খেয়াল রাখবেন। এইভাবে করে আপনি আপনার অভিজ্ঞতা ও পদবি
সঠিকভাবে আপনার প্রোফাইলে এন্ট্রি করতে পারবেন।
স্কিল ও এনডোর্সমেন্ট যুক্ত করার কৌশল
এবার আমি বলব স্কিল ও এনডোর্সমেন্ট যেভাবে আপনি আপনার প্রোফাইলে যুক্ত করতে
পারবেন। অনেকে জানেন না এই স্কিল ও এনডোর্সমেন্ট কিভাবে যুক্ত করতে হয়
প্রোফাইলে। প্রথমে প্রোফাইলে যেয়ে মূল স্কিল যুক্ত করবেন অর্থাৎ পাঁচ থেকে দশটা
প্রধান স্কিল যেগুলো থাকবে সব যুক্ত করবেন প্রোফাইলে। প্রধান যে স্কিল গুলো থাকবে
সেগুলো শুরুতে রাখবেন পরবর্তীতে নিচে বাকি সব স্কিল যুক্ত করবেন। আমি মনে করি সে
সকল কিওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত যেগুলোর সার্চ অপশনে বেশি আসে।
আরও পড়ুনঃ শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমানোর ৬টি উপায়
সেজন্য আপনাদেরকে
প্রফেশনাল কিওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। আর এনডোর্সমেন্ট যুক্ত করার ক্ষেত্রে
আপনার কাছের মানুষ অর্থাৎ বন্ধু-বান্ধব, আপনার ক্লাইন্ট ও সহপাঠীদের এনডোর্সমেন্ট
যুক্ত করতে পারেন। প্রোফাইল ভালো মত অপটিমাইজ করার পরে যদি কোন স্কিল ভালোমতো
শিখে থাকেন, সেটা দ্রুত স্কিল আপডেট করে দেন। এভাবে করে আপনি আপনার প্রোফাইলে
স্কিল ও এনডোর্সমেন্ট যুক্ত করতে পারেন।
রেকমেন্ডেশন সংগ্রহ এবং প্রদর্শনের নিয়ম
রেকমেন্ডেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট আপনার প্রোফাইলের জন্য। রেকমেন্ডেশন বলতে
বুঝাচ্ছে আপনার কাছের কেউ অথবা আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে আগে কাজ করেছেন সে
প্রতিষ্ঠানের মালিক এর প্রশংসাক্তি। অর্থাৎ তারা আপনার কাজে সন্তুষ্ট ও ভবিষ্যতে
সে কাজে আপনি ভালো ফলাফল দিবেন সেটা বুঝায়। এটা হতে পারে আপনার সহকর্মী,
ক্লায়েন্ট, বস এবং প্রফেশনাল নেটওয়ার্কের মানুষের মধ্যে বেছে নিতে পারেন। আপনি
তাদেরকে রিকমেন্ডেশন এর জন্য চাইলে রিকুয়েস্ট পাঠাতে পারেন। আপনি যে কাজের জন্য
তাদের কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন চাচ্ছেন সেটা ভালো মতো করে উল্লেখ করুন। যেমন "SEO
প্রজেক্ট এর জন্য আপনার কার্যকারিতা ও ফলাফল তুলে ধরার জন্য রেকমেন্ডেশন চাই"
এইভাবে আপনি তাদের কাছে রিকমেন্ডেশন পেতে পারেন।
তবে একটা জিনিস মাথায় রাখা
লাগবে সেটা হল যে কাজের জন্য রিকমেন্ডেশন চাচ্ছেন সেটা যেন আপনার আগের কাজের সাথে
মিল থাকে। অমিল থাকলে ক্লায়েন্ট সেটাকে এক ধরনের স্ক্যাম মনে করে নিতে পারে। তবে
কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখেছি আমি সহজে সবাই রেকমেন্ডেশন দেয় না, আপনাকে ধৈর্য ধারণ
করতে হবে এবং প্রথমে তাদের সাথে একটু ফলোআপ করতে হবে। পরে যখন রেকমেন্ডেশন পেয়ে
যাবেন তখন সেটা আপনি আপনার প্রোফাইলে যুক্ত করে প্রদর্শন করবেন। এভাবে করে আপনি
রেকমেন্ডেশন সংগ্রহ করতে পারবেন এবং সেটা প্রদর্শন করতে পারেন।
প্রোফাইল URL কাস্টমাইজ করা
প্রোফাইল URL হল আপনার প্রোফাইলের লিংক। এটি এক ধরনের প্রমাণপত্র। এটা কাস্টমাইজ
করার জন্য কিছু পদ্ধতি আছে। সেগুলো বিষয়ে আমি এখন আপনাদের বুঝাবো। প্রথমে আপনাকে
প্রোফাইলে যেতে হবে, ওর সেখানে প্রোফাইল এডিট মোড ক্লিক করতে হবে। এডিট মোড অন
হয়ে গেলে সেখানে এডিট URL অপশনে ক্লিক করতে হবে। দেখবেন ডানদিকে "edit your
custom URL" এখন দেখাবে সেটাতে ক্লিক করতে হবে।
URL সব সময় নাম কিংবা প্রফেশনাল
ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন। পার্সোনাল নাম ব্যবহার করা ভালো যারা নতুন। তবে
এক্ষেত্রে URL সহজ ও স্পষ্ট রাখা ভালো। যেন সেটা পরবর্তীতে সার্চে সহজে আসতে
পারে। প্রোফাইল শক্তিশালী করতে চাইলে আপনার অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার নামের সাথে
আপনার URL মিল রাখবেন। তারপরের অংশে যে save কিংবা apply অপশনে ক্লিক করে
পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে করে আপনি আপনার প্রোফাইল URL কাস্টমাইজ করতে
পারবেন।
Education ও certificate অপটিমাইজ করা
এবার আমি বলব প্রোফাইলের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সার্টিফিকেটের অপটিমাইজ করার নিয়ম
নিয়ে। এটি মূলত একটি সাধারণ নিয়ম। প্রোফাইলের এডিট অপশনে যেয়ে সেখানে শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করতে হবে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম অফিসিয়াল নামটাই
দিবেন, এটা প্রোফাইলকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেওয়ার পরে
আপনার ডিগ্রী ও শিক্ষার ফিল্ড সেখানে উল্লেখ করবেন। অর্থাৎ আপনি যদি
ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন, তাহলে আপনার ডিগ্রি হবে ইঞ্জিনিয়ার এবং
শিক্ষার ফিল্ড হবে কম্পিউটার। দুটো মিলে আপনার ডিগ্রী ও শিক্ষার সংমিশ্রণে আপনার
পদবী হবে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। এভাবে করে আপনি আপনার ডিগ্রী ও শিক্ষার ফিল্ড
যুক্ত করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন সেগুলো অফিসিয়াল হয়।
তারপরের ধাপে
যুক্ত করতে হবে আপনি এই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা কত সালে শুরু করেছেন এবং কত সালে
পাশ করে বের হয়েছেন। তবে এই সময়কাল যেন বাস্তবে হয় অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি
আপনার অভিজ্ঞতার সাথে এই সময়কাল যেন মিল থাকে। তারপরে আপনার যদি কোন
অ্যাচিভমেন্ট থাকে তাহলে সেটা উল্লেখ করবেন আর যদি না থাকে তাহলে সেটা উল্লেখ
করার দরকার নাই। আপনার সার্টিফিকেট অবশ্যই থাকবে, সেটা অবশ্যই URL এ যুক্ত করবেন।
তবে সে সার্টিফিকেটে যেন কোর্সের নাম, ইসুর তারিখ ও ইসুকৃত প্রতিষ্ঠান অবশ্যই
থাকে। এভাবে করে আপনি ধাপে ধাপে আপনার এডুকেশন ও সার্টিফিকেট অপটিমাইজ করতে
পারবেন আপনার প্রোফাইলে।
নিয়মিত আপডেট এবং কনটেন্ট শেয়ার করে প্রোফাইল শক্তিশালী করা
আপনার প্রোফাইলকে রানিং করতে চাইলে, এ প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হবে এবং কনটেন্ট
নিয়মিত শেয়ার করতে হবে। কারণ এতে আপনার প্রোফাইল শক্তিশালী হবে। প্রথমে আপনাকে
আপনার প্রোফাইলের তথ্য নিয়মিত আপডেট করতে হবে, সেখানে অভিজ্ঞতার আপডেট থাকবে ও
বিভিন্ন প্রজেক্ট এর আপডেট থাকবে। তার পরে কিছু ছোট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার
করতে হবে। যেমন "৩০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইট ১৫০% ট্রাফিক নিয়ে আসা" এইভাবে তথ্য
আপডেট করতে হবে।
আপনার প্রোফাইলের পার্সোনাল ইনফরমেশন থেকে শুরু করে আপনার কাজের
দক্ষতা ও কোন কোম্পানির হয়ে যেসকল কাজ করেছেন সেগুলো প্রতিনিয়ত আপনাকে আপডেট
করতে হবে। আপনার ইনফরমেশন এর মধ্যে বলতে আপনার সদ্য স্কিল অর্জন করা এবং কোন
ডিগ্রী যদি নিয়ে থাকেন সেগুলো আপডেট করা বুঝাচ্ছি আমি। এইভাবে আপনি যদি আপনার
প্রোফাইল নিয়মিত আপডেট এবং কনটেন্ট শেয়ার করেন তাহলে আপনার প্রোফাইল খুব
তাড়াতাড়ি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সর্বশেষ কথা
লিংকডইন প্রোফাইল অপটিমাইজ করার নিয়ম বিষয়ে আমি এখানে যে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
দিয়েছি, একজন নতুন লিংকডইন প্রোফাইল ক্রিয়েটর যদি এ সকল তথ্য আয়ত্ত করতে পারে।
তাহলে তার জন্য প্রোফাইল তৈরি করা থেকে শুরু করে সেটা অপটিমাইজ করা সহজ হয়ে
যাবে। সে আরও বুঝতে পারবে কখন ও কিভাবে সব তথ্য আপডেট করতে হবে। এখানে আরো
বিস্তারিতভাবে আমি আলোচনা করেছি প্রোফাইলের সকল তথ্য আপডেট এবং অভিজ্ঞতা ও পদবীর
এন্ট্রি করার নিয়ম নিয়ে। 250812




অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url