নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম
নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম জানা থাকলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই
নতুন PIN সেট করে আবার স্বাভাবিকভাবে একাউন্ট চালু করতে পারবেন। হঠাৎ PIN মনে না
থাকলে নগদ একাউন্ট ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে যায় ক্যাশ আউট, সেন্ড মানি বা পেমেন্ট
সবকিছুই তখন আটকে যায়।
আজকের এই লেখায় পুরো প্রসেসটা বুঝিয়ে দিচ্ছি কোন নম্বরে কল করবেন, কী তথ্য লাগবে
আর কী করলে দ্রুত PIN রিসেট হবে কোনো ঝামেলা নেই, ঘরে বসেই নিজে নিজে করা যায়।
শুধু সঠিক তথ্য দিলেই হয়। চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই।
পেজ সূচিপত্রঃ নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম
- নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম
- পিন ভুলে গেলে কেন আতঙ্কিত হবেন না, সমাধান খুব সহজ
- *১৬৭# ডায়াল করে নগদ পিন রিসেট করার ধাপে ধাপে নির্দেশনা
- নগদ মোবাইল অ্যাপ থেকে পিন ভুলে গেলে কীভাবে রিসেট করবেন
- পিন রিসেট করতে NID নম্বর, জন্মসাল আর লেনদেনের তথ্য কেন লাগে
- নতুন পিন সেট করার পর কী করবেন আর সতর্কতা
- পিন লক হয়ে গেলে বা পাঁচবার ভুল চেষ্টায় কী করণীয়
- কাস্টমার কেয়ারে কল করে পিন রিসেট করাবেন কখন
- নগদ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার কিছু বাস্তব টিপস
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম
নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম আসলে অনেক সহজ, কিন্তু সঠিক ধাপগুলো জানা থাকলে ঘরে বসেই মিনিট তিনেকের মধ্যে হয়ে যায়। আমি নিজেও একবার এই অবস্থায় পড়ে দেখেছি যে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, শুধু আপনার রেজিস্টার্ড সিমটা হাতে থাকলেই চলে।
প্রথমে ফোনের ডায়াল প্যাড খুলে *১৬৭# ডায়াল করুন
মেনু চলে আসলে
৮ নম্বর চেপে পিন রিসেট অপশনে যান এবং সেন্ড চাপুন
তারপর ১ চেপে 'Forgot PIN' সিলেক্ট করুন। এরপর সেন্ড চাপুন
এরপর সিস্টেম আপনার NID কার্ডের নম্বর চাইবে যেটা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন সেটা সাবধানে লিখে সেন্ড চাপুন
পরের ধাপে NID তে যে জন্ম তারিখ আছে সেটা দিন তারপর সেন্ড চাপুন
তারপর জিজ্ঞাসা করবে গত নব্বই দিনে কোনো লেনদেন করেছেন কি না। যদি করে থাকেন তাহলে ১ চাপুন আর লেনদেনের সঠিক তথ্য দিন। আর না করে থাকলে ২ চেপে সেন্ড বাটন চাপুন
সব তথ্য মিলে গেলে একটা
কনফার্মেশন মেসেজ আসবে যে ভেরিফিকেশন সফল হয়েছে।
শেষ ধাপে আবার *১৬৭# ডায়াল করে নতুন চার সংখ্যার পিন সেট করুন
একই পিন দুবার দিয়ে
কনফার্ম করলেই হয়ে যাবে
তারপর একবার ব্যালেন্স চেক করে নিন যাতে সবকিছু ঠিকঠাক
বুঝতে পারেন। এভাবে করলে আর কোনো ঝামেলা নেই, তবে মনে রাখবেন কখনো কাউকে পিন
শেয়ার করবেন না আর সবসময় সঠিক তথ্য দিয়ে চলবেন।
পিন ভুলে গেলে কেন আতঙ্কিত হবেন না, সমাধান খুব সহজ
সত্যি কথা বলতে কি, নগদ অ্যাকাউন্টের পিন ভুলে যাওয়াটা এমন একটা সাধারণ ব্যাপার
যে আমাদের প্রায় সবার জীবনেই একবার না একবার ঘটে, আমি নিজেও তো একবার রাত দশটায়
টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখি পিন মনে নেই, হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু পরে
বুঝলাম আতঙ্ক করার কোনো কারণই নেই কারণ নগদ নিজেরাই এমন সহজ সিস্টেম রেখেছে যে
ঘরে বসে মিনিট তিনেকের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায়, আগের দিনের মতো এজেন্টের দোকানে
ছুটতে হয় না বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয় না।
আসলে আমরা এত এত অ্যাপ আর পাসওয়ার্ড ও পিন মাথায় রাখি যে কখনো কখনো একটা মিস হয়ে
যায়, তাতে কী হয়েছে, নগদের টিম তো জানে এটা মানুষের স্বাভাবিক সমস্যা তাই *১৬৭#
ডায়াল করলেই বা অ্যাপে এক ক্লিকে সব সমাধান হয়ে যায়, শুধু NID আর জন্মসাল ঠিকঠাক
দিলেই হয়, আর যদি কোনো লেনদেন না করে থাকেন তাহলেও কাস্টমার কেয়ারে একটা কল করলেই
চলে, কোনো টাকা কাটবে না, কোনো ঝামেলা নেই।
বরং এই সিস্টেমটা আমাদের টাকা আরও নিরাপদ রাখে কারণ যে কেউ চাইলেই পিন রিসেট করতে
পারবে না, সঠিক তথ্য চাই, তাই চিন্তা ছেড়ে দিয়ে একটু শান্ত মাথায় ধাপগুলো ফলো
করুন, দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে আর আপনার টাকা একদম নিরাপদে আছে।
*১৬৭# ডায়াল করে নগদ পিন রিসেট করার ধাপে ধাপে নির্দেশনা
আপনার মোবাইলের ডায়াল প্যাডে গিয়ে সোজা *১৬৭# ডায়াল করুন। ডায়াল করার পর কয়েক
সেকেন্ডের মধ্যে নগদের মেইন মেনু চলে আসবে। সেখানে বিভিন্ন অপশন দেখতে পাবেন,
আপনাকে ৮ নম্বর অপশনটি চাপতে হবে যেটা সাধারণত পিন রিসেট বা সিকিউরিটি সেটিংসের
সাথে যুক্ত থাকে। তারপর পরবর্তী মেনুতে ১ চেপে 'Forgot PIN' বা 'পিন ভুলে গেছেন'
অপশনটি সিলেক্ট করুন। এই পর্যন্ত খুব সহজ, কোনো জটিলতা নেই। নগদ একাউন্টের পিন
ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম অনুসরণ করে এবার সিস্টেম আপনার NID কার্ডের ১০ বা ১৭
ডিজিটের নম্বর চাইবে, যেটা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল সেটা খুব সাবধানে টাইপ
করে সেন্ড করুন।
পরের স্টেপে আপনার NID তে যে জন্ম তারিখ বা জন্মসাল লেখা আছে সেটা ঠিকঠাক দিন।
তারপর জিজ্ঞেস করবে গত ৯০ দিনের মধ্যে কোনো লেনদেন করেছেন কি না। যদি করে থাকেন
তাহলে সেই লেনদেনের ধরন (ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, সেন্ড মানি ইত্যাদি) আর টাকার
পরিমাণ মনে করিয়ে দিন। সঠিক তথ্য দিতে পারলে ভেরিফিকেশন সফল হয়ে যাবে। ভেরিফিকেশন
হয়ে গেলে আবার *১৬৭# ডায়াল করে নতুন ৪ সংখ্যার পিন সেট করার অপশন পাবেন।
একটা এমন পিন বেছে নিন যা আপনার মনে থাকে কিন্তু অন্য কেউ সহজে আন্দাজ করতে না
পারে। একই পিন দুবার দিয়ে কনফার্ম করুন। সবকিছু শেষ হয়ে গেলে একবার ব্যালেন্স চেক
করে নিন যে অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে কাজ করছে কি না। এভাবে ধাপে ধাপে করলে খুব সহজেই
নগদের পিন রিসেট হয়ে যায়।
নগদ মোবাইল অ্যাপ থেকে পিন ভুলে গেলে কীভাবে রিসেট করবেন
অ্যাপটা খুলে লগইন স্ক্রিনে চলে আসুন, দেখবেন নিচের দিকে "পিন নাম্বার ভুলে
গিয়েছেন" বা "Forgot PIN?" লেখা একটা অপশন আছে, সেটাতে ট্যাপ করুন। সাথে সাথে
অ্যাপটা আপনাকে বলবে ১৬১৬৭ কিংবা ০৯৬০৯৬১৬১৬৭ নম্বরে কল করতে, এটা অফিসিয়াল
হেল্পলাইন। কল করার পর কাস্টমার কেয়ারের এজেন্ট আপনার পরিচয় যাচাই করবে, তাই NID
কার্ডটা হাতের কাছে রাখুন, জন্মসাল বলুন আর গত কয়েক মাসের কোনো লেনদেনের
বিস্তারিত তথ্য (যেমন কত টাকা ক্যাশআউট করেছেন বা সেন্ড মানি করেছেন) মনে করিয়ে
দিন।
সব মিলে গেলে তারা আপনার রেজিস্টার্ড নম্বরে একটা OTP পাঠাবে। এবার সেই OTPটা
অ্যাপে ঢুকিয়ে ভেরিফাই করুন, তারপর নতুন একটা চার সংখ্যার পিন সেট করার অপশন চলে
আসবে। এমন পিন বেছে নিন যেটা আপনার মনে থাকে কিন্তু অন্য কেউ অনুমান করতে না
পারে, দুবার একই পিন দিয়ে কনফার্ম করুন। সবকিছু ঠিকঠাক হলে অ্যাপটা আপনাকে লগইন
করতে দেবে আর একবার ব্যালেন্স চেক করে নিন যে সব স্বাভাবিক আছে কি না।
এই পুরো প্রক্রিয়াটা অ্যাপের মাধ্যমে করলে আরও নিরাপদ লাগে কারণ লাইভ ভেরিফিকেশন
হয়, তবে কলটা অবশ্যই অফিসিয়াল নম্বর থেকে করবেন আর কখনো কাউকে OTP বা নতুন পিন
শেয়ার করবেন না। এভাবে করলে মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যায়।
পিন রিসেট করতে NID নম্বর, জন্মসাল আর লেনদেনের তথ্য কেন লাগে
আসলে নগদের এই সিস্টেমটা একদম নিরাপত্তার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। আপনি যখন পিন
রিসেট করতে যান তখন প্রথমেই NID নম্বর চাওয়া হয় কারণ এটা আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের
নম্বর, যেটা দিয়ে আপনি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। বাংলাদেশে NID ছাড়া কোনো ডিজিটাল
ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস চালানো যায় না, কারণ এটা সরকারি ভেরিফিকেশনের মূল প্রমাণ।
যদি কেউ আপনার সিম চুরি করে বা কোনোভাবে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করে তাহলে
NID ছাড়া সে কিছুই করতে পারবে না। এজন্য নগদ এই তথ্যটা নিশ্চিত করে যে শুধুমাত্র
আপনিই এই অ্যাকাউন্টের আসল মালিক, অন্য কেউ নয়।
আমি দেখেছি অনেকে NID ভুল লিখে ফেলেন বলে রিসেট হয় না, তাই কার্ডটা সামনে রেখে
ঠিকঠাক করে দিন। নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম অনুসারে জন্মসাল
আর লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয় যাতে আরও এক ধাপ নিরাপত্তা যোগ হয়। NID নম্বর দিলেই তো
শেষ হয় না, কারণ NID তো অনেকের কাছেই থাকতে পারে। তাই জন্মসাল দিয়ে আপনার
ব্যক্তিগত পরিচয় আরও শক্তিশালী করা হয়।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গত ৯০ দিনের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য ক্যাশ আউট
করেছেন কি না, কত টাকা পাঠিয়েছেন, কোথায় খরচ করেছেন এসব। এটা এজন্য লাগে যে যে
ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট চুরি করতে চাইবে সে কখনোই আপনার লেনদেনের পুরো হিসাব জানবে
না। এভাবে নগদ নিশ্চিত করে যে আপনি ছাড়া আর কেউ এই অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।
শেষমেশ এই সব তথ্য চাওয়ার পেছনে নগদের একটাই লক্ষ্য আপনার টাকা যেন কোনোভাবেই
অন্যের হাতে চলে না যায়। আমরা যারা নগদ ব্যবহার করি তারা জানি যে ডিজিটাল লেনদেনে
সিকিউরিটি সবচেয়ে বড় বিষয়।
যদি শুধু পিন দিয়েই রিসেট হয়ে যেত তাহলে যে কেউ সহজেই অ্যাকাউন্ট নিয়ে নিতে পারত।
কিন্তু এই তিনটা তথ্য মিলিয়ে চেক করার কারণে চোর ডাকাত বা স্ক্যামারদের পথ বন্ধ
হয়ে যায়। তাই একটু সময় লাগলেও এটা আসলে আপনারই উপকারের জন্য। সঠিক তথ্য দিলে
রিসেট হয়ে যাবে খুব সহজে, আর ভুল হলে কাস্টমার কেয়ারে একটা কল করলেই সব ঠিক হয়ে
যায়। এভাবে নগদ আমাদেরকে নিরাপদে রাখছে বলে আমি মনে করি এই সিস্টেমটা সত্যিই
ভালো।
নতুন পিন সেট করার পর কী করবেন আর সতর্কতা
নতুন পিন সেট করা হয়ে গেলে সবার আগে একবার লগইন করে নিশ্চিত হয়ে নিন যে
অ্যাকাউন্টটা ঠিকমতো খুলছে কি না। *১৬৭# ডায়াল করে বা নগদ অ্যাপে ঢুকে ব্যালেন্স
চেক করুন, দেখুন আপনার টাকা-পয়সা সব ঠিকঠাক আছে কি না। আমি সাধারণত একটা ছোট
টেস্ট লেনদেন করে নিই, যেমন ২০ থেকে ৫০ টাকার রিচার্জ বা কারো কাছে সামান্য টাকা
পাঠিয়ে দেখি সব স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কিনা। এতে মনে একটা শান্তি পাওয়া যায় আর
বুঝতে পারা যায় পুরো প্রক্রিয়াটা সঠিকভাবে শেষ হয়েছে। পিনটা কখনো ফোনে লিখে বা
স্ক্রিনশট নিয়ে রাখবেন না, বরং মুখস্থ করে রাখার চেষ্টা করুন।
এবার সতর্কতার কথা বলি, এটাই সবচেয়ে জরুরি। নতুন পিন কখনোই কারো সাথে শেয়ার করবেন
না এমনকি বন্ধুকেও না, না পরিবারের কাউকে, এমনকি নগদের নাম করে যারা ফোন করে
তাদেরও না। অনেক স্ক্যামার এই সময়ে ফোন করে বলে "আপনার অ্যাকাউন্ট লক হয়ে গেছে,
পিন দিন সাহায্য করব" একদম বিশ্বাস করবেন না। নগদের কোনো কর্মী কখনো পিন চায়
না।
ভালো হয় প্রতি দু থেকে তিন মাস অন্তর পিনটা চেঞ্জ করে ফেলা, অ্যাপটা সবসময় আপডেট
রাখা আর পাবলিক ওয়াইফাইতে লেনদেন না করা। এসব ছোট ছোট সতর্কতা মেনে চললে আপনার
নগদ অ্যাকাউন্ট অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে আর টেনশনমুক্ত হয়ে লেনদেন করতে পারবেন।
পিন লক হয়ে গেলে বা পাঁচবার ভুল চেষ্টায় কী করণীয়
যদি আপনি হুট করে তাড়াহুড়োয় বা পিন মনে না থাকায় একসাথে পাঁচবার ভুল পিন দিয়ে
চেষ্টা করেন তাহলে নগদের সিস্টেম অটোমেটিক্যালি আপনার অ্যাকাউন্টকে সাময়িকভাবে লক
করে দেয়। এটা আসলে তাদের খুবই স্মার্ট একটা নিরাপত্তা ফিচার, যাতে কেউ বারবার
চেষ্টা করে আপনার পিন আন্দাজ করতে না পারে বা হ্যাকাররা সুযোগ নিতে না পারে।
সাধারণত এই লক চার ঘণ্টার জন্য থাকে, এই সময়ের মধ্যে *১৬৭# ডায়াল করলেও বা অ্যাপ
খুলে লগইন করতে চাইলেও কিছুই হবে না।
অনেকেই এতে বেশ টেনশনে পড়ে যান, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়, কিন্তু আসলে এটা আপনারই
টাকা রক্ষা করার জন্য করা হয়েছে। তাই লক হয়ে গেলে একদম আতঙ্কিত হবেন না, একটু
ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন আর এই ফাঁকে পিনটা কীভাবে মনে রাখবেন সেটা একবার ভেবে
দেখুন। নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম অনুসরণ করে লক হয়ে গেলে
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো চার ঘণ্টা অপেক্ষা করা, এরপর আবার *১৬৭# ডায়াল করে চেষ্টা
করলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লক খুলে যায় এবং আপনি স্বাভাবিকভাবে লগইন করতে
পারবেন।
যদি খুব জরুরি প্রয়োজন হয় বা চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে না চান তাহলে সরাসরি ১৬১৬৭
বা ০৯৬০৯৬১৬১৬৭ নম্বরে কাস্টমার কেয়ারে কল করুন। কল করার সময় NID কার্ডটা হাতের
কাছে রাখুন, জন্মসাল বলুন আর যদি মনে থাকে তাহলে সাম্প্রতিক কোনো লেনদেনের
বিস্তারিত তথ্যও দিন। তারা আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার পর অ্যাকাউন্ট আনলক করে দিতে
পারবে বা সরাসরি নতুন পিন সেট করিয়ে দেবে।
তবে এই সময় কখনোই কোনো অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল বা মেসেজের কথায় পিন বা OTP
শেয়ার করবেন না, কারণ এটা স্ক্যামারদের সবচেয়ে বড় ফাঁদ। এভাবে সতর্ক থাকলে লক
খুলে যাওয়ার পরও আপনার অ্যাকাউন্ট একদম নিরাপদ থাকবে।
কাস্টমার কেয়ারে কল করে পিন রিসেট করাবেন কখন
অনেক সময় *১৬৭# ডায়াল করে বা নগদ অ্যাপ থেকে চেষ্টা করেও পিন রিসেট করা যায় না।
যেমন NID নম্বর ভুল দেখাচ্ছে, অ্যাকাউন্টে কোনো লেনদেন হয়নি, সিম চেঞ্জ করেছেন বা
পাঁচবার ভুল পিন দিয়ে অ্যাকাউন্ট লক হয়ে গেছে এমন অবস্থায় কাস্টমার কেয়ারে কল
করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। নগদের অফিসিয়াল হেল্পলাইন নম্বর ১৬১৬৭ বা ০৯৬০৯৬১৬১৬৭ এ
ফোন করলে তাদের এজেন্ট আপনাকে সরাসরি সাহায্য করবে।
আমি নিজেও দেখেছি যে এই ধরনের জটিল কেসে কল করলে একদম সহজে সমাধান হয়ে যায়, কারণ
তারা লাইভ যাচাই করে সবকিছু ঠিক করে দেয়। কল করার সময় NID কার্ড হাতে রাখুন, কারণ
তারা আপনার NID নম্বর, জন্মসাল এবং সাম্প্রতিক লেনদেনের তথ্য জিজ্ঞাসা করবে।
শান্ত মাথায় সঠিক উত্তর দিন, তাহলে তারা দ্রুত আপনার পরিচয় যাচাই করে অ্যাকাউন্ট
আনলক করে নতুন পিন সেট করে দেবে।
এই সার্ভিস সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে মনে রাখবেন,
কখনো অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কলের কথায় পিন বা OTP শেয়ার করবেন না। এটা খুবই
জরুরি সতর্কতা, কারণ স্ক্যামাররা এই সময়ে সুযোগ নিতে চায়। এভাবে কল করলে আপনার
টাকা একদম নিরাপদ থাকবে আর ঝামেলাও কমবে।
নগদ অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার কিছু বাস্তব টিপস
নগদ অ্যাকাউন্টকে সবসময় নিরাপদে রাখতে চাইলে কিছু বাস্তব টিপস মেনে চলা খুবই
জরুরি। নগদ একাউন্টের পিন ভুলে গেলে রিসেট করার নিয়ম জানার পাশাপাশি সবচেয়ে বড়
কাজ হলো কখনোই আপনার পিন বা OTP কারো সাথে শেয়ার না করা, এমনকি ঘনিষ্ঠজনদের সাথেও
নয়। প্রতি দু থেকে তিন মাস অন্তর পিন চেঞ্জ করে ফেলুন, নগদ অ্যাপ সবসময় আপডেট
রাখুন, পাবলিক ওয়াইফাইতে লেনদেন করবেন না এবং কেউ ফোন করে পিন চাইলে একদম বিশ্বাস
করবেন না। এসব ছোট ছোট সতর্কতা মেনে চললে আপনার টাকা অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে আর
অযথা টেনশনও কমবে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
নগদ একাউন্ট এর পিন ভুলে গেলে রিসেট করাটা আসলে এতটাই সহজ
যে ঘরে বসে মিনিট তিনেকের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায়। আমি নিজে যখন প্রথমবার এই
সমস্যায় পড়েছিলাম তখন বেশ টেনশন হয়েছিল, কিন্তু এখন বুঝি যে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো
কারণই নেই। শুধু সঠিক তথ্য দিয়ে ধাপগুলো ফলো করলেই হয়। আজকের এই লেখায় আমি চেষ্টা
করেছি পুরো বিষয়টা খোলাখুলি, ধাপে ধাপে আর বাস্তব অভিজ্ঞতা মিলিয়ে বলতে, যাতে
আপনারা সত্যিকারের সাহায্য পান।
নগদের এই সিস্টেমটা সত্যিই ভালো, কারণ এতে আমাদের টাকা নিরাপদ থাকে আর ঝামেলাও কম
হয়। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, পিন রিসেট করার পরেও সতর্কতা একদম ছাড়বেন না। কখনো
কারো সাথে পিন বা ওটিপি শেয়ার করবেন না, অ্যাপ আপডেট রাখুন আর সন্দেহজনক কল এলে
একদম বিশ্বাস করবেন না।
আমি মনে করি এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই আমাদের ডিজিটাল লেনদেনকে অনেক বেশি নিরাপদ
করে। যদি এই লেখাটা আপনার কাজে লাগে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে দিন, হয়তো কেউ
এখনই এই সমস্যায় আটকে আছে। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন, আমি চেষ্টা করব
সাহায্য করতে। নিরাপদে থাকুন, সুস্থে থাকুন, অর্ডিনারি আইটির সাথেই থাকুন, আর নগদে লেনদেন করুন মনের আনন্দে।











অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url