হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময় প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহার
হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময় প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহার অনেকেই হইতো
অবহেলা করেন, আর পরে ছোট খাট ভুলই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটা ভালো
হেলমেট, গ্লাভস আর জ্যাকেট শুধু স্টাইল না, এগুলোই রাস্তায় আপনার আসল সঙ্গী।
দূরের পথে বের হলে "সাবধানের মার নেই" কথাটা সত্যিই মনে রাখা দরকার। তাই স্মার্ট
রাইডার হতে চাইলে আজ থেকেই সেফটি গিয়ারকে অভ্যাস বানান, শুধু শখের জন্য নয়,
নিজের নিরাপত্তার জন্যও। আসুন জেনে নেই সেফটি গিয়ার এর ব্যবহার।
পেজ সূচিপত্রঃ হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময় প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহার
- হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময় প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহার
- আপনার মাথা বাঁচাতে সঠিক হেলমেট বেছে নেওয়া
- শরীরের সুরক্ষায় প্রোটেক্টিভ জ্যাকেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ
- হাতের নিরাপত্তায় গ্লাভস ছাড়া কখনো রাইড করবেন না
- পায়ের নিরাপত্তায় সঠিক রাইডিং বুটস
- চোখ রক্ষায় গগলস বা ভিজর ব্যবহার
- রাতের হাইওয়েতে রিফ্লেক্টিভ গিয়ার আপনাকে বাঁচাবে
- খারাপ আবহাওয়ায় সেফটি গিয়ারের ব্যবহার
- অতিরিক্ত সেফটি আইটেম যা আপনি সাথে রাখবেন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময় প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহার
হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময় প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহার এর প্রয়োজনীয়তা
কতটুকু। সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে হাইওয়েতে বাইক চালানো মানে একটা অন্যরকম
অনুভূতি। বাতাস কাটিয়ে ছুটে যাওয়া, দুই পাশে সবুজ মাঠ, আর সামনে খোলা
রাস্তা-এটা যে কতটা ভালো লাগে, সেটা যে চালিয়েছে সেই বোঝে। কিন্তু এই ভালো লাগার
আড়ালে এক কঠিন বাস্তবতা আছে। হাইওয়ে কোনো গলির রাস্তা না। এখানে ট্রাক আসে, বাস
আসে, আর অনেক সময় হিসাব মেলে না। আসুন দেখে নেই সেফটি গিয়ার এর কিছু ব্যবহার ও
প্রয়োজনীয়তা।
হেলমেট-এটা নিয়ে কোনো আপস নেইঃ হেলমেট পরা নিয়ে অনেকের একটা অদ্ভুত মনোভাব আছে।
"কাছেই তো যাচ্ছি," "গরম লাগে," "চুল নষ্ট হয়।" এই কথাগুলো শুনতে যতটা সাধারণ,
দুর্ঘটনার পর ঠিক ততটাই ভয়ংকর মনে হয়। হাইওয়েতে গতি থাকে। ৬০, ৮০, কখনো ১০০
কিলোমিটারের উপরেও। এই গতিতে মাথা যদি রাস্তায় পড়ে, তাহলে ফলটা কী হয় সেটা
কল্পনা করাও কঠিন। ভালো হেলমেট মানে শুধু মাথায় একটা প্লাস্টিক না-ISI বা DOT
সার্টিফাইড, ফুল-ফেস ডিজাইন, আর ভেতরে ঠিকঠাক প্যাডিং। চিনের বাজার থেকে ৩০০
টাকায় কেনা হেলমেট দুর্ঘটনায় কার্যত কোনো কাজেই আসে না। একটাই মাথা। সেটার দাম
একটু বেশি হওয়া উচিত।
জ্যাকেট-শুধু ফ্যাশন না, এটা আসলে আপনার চামড়াঃ রাইডিং জ্যাকেট পরা দেখলে অনেকে
ভাবে লোকটা হয়তো বড় কোনো ট্যুরে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবটা হলো, হাইওয়েতে একটু
পিছলে গেলেই রাস্তার সাথে চামড়ার যে ঘর্ষণ হয় সেটা ভয়াবহ। এটাকে ইংরেজিতে বলে
"road rash"-আর এই ক্ষত শুধু বেদনাদায়ক না, সংক্রমণের ঝুঁকিও প্রচণ্ড বেশি। ভালো
রাইডিং জ্যাকেটে থাকে কনুইয়ে আর কাঁধে আলাদা armor বা প্যাড, মোটা কর্ডুরা বা
লেদার ফ্যাব্রিক, আর গরমের কথা মাথায় রেখে mesh ডিজাইনও পাওয়া যায় আজকাল।
বাংলাদেশের গরমে ফুল লেদার জ্যাকেট পরা একটু কষ্টকর, সেটা মানি। কিন্তু হালকা
mesh armor জ্যাকেট পরলে গরমও কম লাগে, সুরক্ষাও থাকে।
আরো পাড়ুনঃ প্রোগ্রামিং কি ? প্রোগ্রামিং এর মৌলিক ধারণা
গ্লাভস-হাত দিয়েই আগে বাঁচার চেষ্টা করি আমরাঃ পড়ে যাওয়ার সময় মানুষ প্রথমে
কী করে? হাত দিয়ে মাটি ঠেকায়। এটা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। আর সেই
মুহূর্তে গ্লাভস না থাকলে হাতের তালু, আঙুল-সব রাস্তায় ছিঁড়ে যায়। রাইডিং
গ্লাভস শুধু হাত ঢাকে না। কব্জিতে থাকে সাপোর্ট, আঙুলের জয়েন্টে থাকে padding।
আর হাইওয়েতে দীর্ঘ পথ চালাতে গেলে ভাইব্রেশন থেকে হাত ক্লান্ত হয়ে যায়-গ্লাভস
সেটাও কমায়। মানে শুধু নিরাপত্তা না, আরামও।
বুট বা অ্যাংকেল প্রোটেকশন-পায়ের কথা আমরা ভুলে যাইঃ হেলমেট নিয়ে কথা হয়,
জ্যাকেট নিয়ে হয়, কিন্তু পায়ের সুরক্ষা নিয়ে খুব কম মানুষ ভাবে। অথচ
দুর্ঘটনায় পায়ের গোড়ালি আর হাঁটু সবচেয়ে বেশি আঘাত পায়। স্লিপার বা সাধারণ
স্যান্ডেল পরে হাইওয়েতে ওঠা মানে না, এভাবে বলাই ভালো-এটা রিস্ক না, এটা বোকামি।
অ্যাংকেল সাপোর্ট আছে এমন বুট বা অন্তত মোটা সোলের বন্ধ জুতা পরা উচিত।
রাইডিং-স্পেসিফিক বুট পাওয়া যায়, দামও আগের চেয়ে অনেক কমেছে।
নি গার্ড আর এলবো গার্ড-একটু বেশি মনে হলেও নাঃ অনেকের কাছে হাঁটুর গার্ড পরা
মানে "বেশি বাড়াবাড়ি।" কিন্তু হাঁটুর হাড় একবার ভাঙলে রিকভারি কতটা লম্বা হয়,
সেটা যে পার করেছে সেই জানে। হাইওয়েতে দীর্ঘ রাইডে নি গার্ড পরা মানে হাঁটুতে
একটা অতিরিক্ত কভার, যেটা ভাঁজও হয় আর প্রয়োজনে শক্তও থাকে। এগুলো আলাদাভাবে
কিনে জ্যাকেট বা প্যান্টের নিচে পরা যায়। দেখতে কেউ বুঝবেও না। কিন্তু সুরক্ষাটা
ঠিকই থাকে।
গিয়ার কিনতে হাজার টাকা লাগে, এটা সত্যি। কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় হাসপাতালের
খরচ, অপারেশন, আর মাসের পর মাস শুয়ে থাকার ক্ষতি-সেটা হিসাব করলে সেফটি গিয়ার
আসলে সস্তাই। নিজেই চিন্তা করে দেখুন।
আপনার মাথা বাঁচাতে সঠিক হেলমেট বেছে নেওয়া
হেলমেট কেনার সময় বেশিরভাগ মানুষ যা করে সেটা হলো দোকানে গিয়ে একটা দেখতে ভালো
লাগলে কিনে ফেলে। রঙটা পছন্দ হলো, দামটা ঠিকঠাক মনে হলো-ব্যস, কেনা হয়ে গেল।
কিন্তু সমস্যা হলো, হেলমেটের আসল কাজ শুরু হয় যখন দুর্ঘটনা ঘটে। আর সেই মুহূর্তে
একটা সস্তা, সার্টিফিকেশনহীন হেলমেট মাথায় থাকা আর না থাকা-কার্যত একই কথা। ISI
বা DOT সার্টিফাইড ফুল-ফেস হেলমেট বেছে নেওয়াটা আসলে বাড়তি খরচ না, এটা একটা
বিনিয়োগ। হেলমেটের ভেতরের EPS ফোম লেয়ার, শক্ত outer shell, আর মুখের visor-এই
তিনটা মিলে কাজ করে। শুধু একটা নিলেই হয় না, পুরো সিস্টেমটা ঠিক থাকা দরকার।
আর শুধু কেনাই শেষ কথা না, পরার সময় ঠিকঠাক fit হচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে।
ঢিলা হেলমেট দুর্ঘটনায় মাথা থেকে খুলে যায়-এটা অনেকে জানেই না। হেলমেট পরার পর
দুই হাত দিয়ে আলতো ঝাঁকি দিয়ে দেখুন, যদি বেশি নড়ে তাহলে size ঠিক নেই। chin
strap টা lock করার পর এক আঙুল ঢোকার জায়গা থাকবে, এর বেশি না। আর হেলমেট পড়ে
গেলে বা বড় ধাক্কা খেলে-সেটা দেখতে ঠিক থাকলেও বদলে ফেলুন। ভেতরের foam একবার
compress হয়ে গেলে আর আগের মতো কাজ করে না। মাথাটা একটাই, সেটার হিসাব একটু
সিরিয়াসলি নেওয়াই ভালো।
শরীরের সুরক্ষায় প্রোটেক্টিভ জ্যাকেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ
অনেকে ভাবেন রাইডিং জ্যাকেট মানে শুধু একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট, বাইকারদের একটা
"লুক।" কিন্তু বাস্তবটা হলো, রাস্তায় পড়ে গেলে আপনার আর রাস্তার মাঝখানে যা
থাকে সেটাই ঠিক করে দেয় আঘাতটা কতটা গভীর হবে। হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময়
প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহারের কথা উঠলে প্রোটেক্টিভ জ্যাকেটের নামটা সবার
আগে আসা উচিত, কারণ শরীরের সবচেয়ে বড় অংশ-বুক, পিঠ, কাঁধ, কনুই-এই জ্যাকেটই
আগলে রাখে।
ভালো রাইডিং জ্যাকেটে কাঁধে আর কনুইতে CE-রেটেড armor থাকে, পিঠে থাকে spine
protector-এর স্লট, আর বাইরের ফ্যাব্রিক এমনভাবে বোনা থাকে যাতে রাস্তার সাথে
ঘর্ষণেও সহজে ছিঁড়ে না যায়। বাংলাদেশের গরমের কথা মাথায় রেখে এখন mesh
জ্যাকেটও পাওয়া যায় যেগুলো বাতাস চলতে দেয়, ফলে গরম অনেকটাই সামলানো যায়-তাই
"গরম লাগে" অজুহাতটা আর খুব একটা টেকে না।
হাতের নিরাপত্তায় গ্লাভস ছাড়া কখনো রাইড করবেন না
একটা জিনিস একবার ভাবুন-পড়ে যাওয়ার সময় আপনি কী করবেন? চোখ বন্ধ করে থাকবেন
না, হাত দিয়ে মাটি ঠেকানোর চেষ্টা করবেন। এটা শেখানো লাগে না, শরীর নিজেই করে।
আর সেই এক সেকেন্ডের মধ্যে, হাতের তালু আর আঙুলগুলো রাস্তার সাথে যে ঘর্ষণে
পড়ে-সেটা চামড়া, মাংস সব নিয়ে যায়। গ্লাভস ছাড়া হাইওয়েতে রাইড করা মানে সেই
সুরক্ষাটা নিজে থেকে সরিয়ে রাখা। অথচ একটা ভালো রাইডিং গ্লাভস হাতের তালুতে দেয়
reinforced padding, আঙুলের জয়েন্টে দেয় knuckle guard, আর কব্জিতে থাকে strap
যেটা impact-এ হাত ভাঁজ হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। এতটুকু সুরক্ষার জন্য যা দরকার
সেটা আসলে খুব বেশি কিছু না।
আর শুধু দুর্ঘটনার কথা বাদ দিলেও, দীর্ঘ হাইওয়ে রাইডে গ্লাভসের দরকার আছে অন্য
কারণেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হ্যান্ডেলবার ধরে থাকলে ইঞ্জিনের ভাইব্রেশন হাতে আর
কব্জিতে জমতে থাকে, একটা সময় হাত অসাড় লাগতে শুরু করে। গ্লাভস সেই ভাইব্রেশন
অনেকটা শুষে নেয়, ফলে হাত ক্লান্ত হয় কম আর মনোযোগ থাকে রাস্তায়। শীতে ঠান্ডা
বাতাসে হাত জমে যাওয়া, গরমে ঘামে হ্যান্ডেল পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া-এই সমস্যাগুলোও
গ্লাভস অনেকটা সামলে দেয়। তাই গ্লাভসকে শুধু "সেফটি আইটেম" না ভেবে রাইডের একটা
অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভাবুন-পার্থক্যটা নিজেই টের পাবেন।
পায়ের নিরাপত্তায় সঠিক রাইডিং বুটস
বাইকারদের মধ্যে পায়ের সুরক্ষা নিয়ে কথা সবচেয়ে কম হয়, অথচ দুর্ঘটনায় পা আর
গোড়ালির আঘাত সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। স্লিপার পরে বা পাতলা কেডস পরে হাইওয়েতে
উঠে যাওয়াটা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে অনেকে ভুলেই যান-বাইক থেকে পড়লে পা
প্রথমে রাস্তায় আছাড় খায়, আর সেই মুহূর্তে গোড়ালির হাড়, পায়ের পাতা আর গিঁট
কতটা ক্ষতির মুখে পড়ে সেটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে বুঝতে হয়।
আরো পড়ুনঃ হারানো ফেসবুক আইডি ফিরে পাওয়ার উপায়
ভালো রাইডিং বুটসে থাকে ankle reinforcement যেটা মোচড় খাওয়া থেকে বাঁচায়,
sole হয় মোটা আর oil-resistant যাতে পিচ্ছিল রাস্তায় পা না সরে, আর পুরো পাতাটা
ঢাকা থাকে শক্ত ফ্যাব্রিক বা লেদারে। দেখতে হয়তো একটু ভারী মনে হয়, কিন্তু
একবার পরে রাইড করলে বুঝবেন কন্ট্রোলটা কতটা ভালো লাগে-আর সেটাই আসল কথা।
চোখ রক্ষায় গগলস বা ভিজর ব্যবহার
হাইওয়েতে ৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটছেন, আর হঠাৎ একটা ছোট পাথরের টুকরো বা পোকা
সরাসরি চোখে এসে লাগলো-সেই এক সেকেন্ডে কী হতে পারে সেটা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে।
চোখ এমন একটা জায়গা যেটা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর ফেরানো যায় না, অথচ এই
সুরক্ষাটা নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি উদাসীন। হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময়
প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহারের কথা বলতে গেলে গগলস বা হেলমেট ভিজর-এই দুটোর
যেকোনো একটা চোখে থাকা মানে ধুলো, বালি, পোকা, ছোট পাথর আর তীব্র বাতাসের ঝাপটা
থেকে চোখ পুরোপুরি আড়াল করা।
ফুল-ফেস হেলমেটে যে ভিজর থাকে সেটা anti-scratch আর UV-protected হলে সবচেয়ে
ভালো, আর যারা হাফ-ফেস হেলমেট পরেন তাদের জন্য আলাদা রাইডিং গগলস কেনাটা একদম
জরুরি। রোদের দিকে তাকিয়ে চালালে চোখ ধাঁধিয়ে যায়, সেটাও দুর্ঘটনার কারণ হতে
পারে-tinted visor বা গগলস সেই সমস্যাটাও একসাথে সামলে দেয়।
রাতের হাইওয়েতে রিফ্লেক্টিভ গিয়ার আপনাকে বাঁচাবে
রাতের হাইওয়েতে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো আপনি হয়তো সব কিছু দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু
অন্যরা আপনাকে দেখতে পাচ্ছে না। একটা ট্রাক বা বাস পেছন থেকে আসছে, চালক হয়তো
মনোযোগী, কিন্তু অন্ধকারে একটা কালো জ্যাকেট পরা বাইকার তার কাছে প্রায়
অদৃশ্য-এই একটা কারণেই রাতের হাইওয়েতে এত দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়েতে বাইক চালানোর
সময় প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহারের মধ্যে রিফ্লেক্টিভ গিয়ার হয়তো সবচেয়ে
কম আলোচিত, কিন্তু রাতের বেলা এটাই সবচেয়ে বেশি জীবন বাঁচায়।
রিফ্লেক্টিভ জ্যাকেট বা জ্যাকেটের উপর পরার রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট, হেলমেটে
reflective sticker, আর বুটে reflective strip-এগুলো গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়লে
দূর থেকেই জ্বলজ্বল করে ওঠে, ফলে পেছন থেকে আসা যেকোনো গাড়ির চালক আপনাকে আগে
থেকেই দেখতে পায় এবং সময়মতো সরে যেতে পারে। রাতে বের হওয়ার আগে একবার আয়নায়
নিজেকে দেখুন-যদি অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে রাস্তায় বের হওয়াটা ঠিক হবে
না।
খারাপ আবহাওয়ায় সেফটি গিয়ারের ব্যবহার
বাংলাদেশে যে কেউ বলবে আবহাওয়া এখানে কখনো বিশ্বাসযোগ্য না-সকালে রোদ, বিকেলে
ঝড়, আর মাঝরাতে মুষলধারে বৃষ্টি। হাইওয়েতে থাকলে এই পরিবর্তনটা আরো বেশি
বিপজ্জনক, কারণ ভেজা রাস্তায় বাইকের grip কমে যায়, দৃষ্টিশক্তি কমে যায়, আর
শরীর ভিজে ঠান্ডা হলে মনোযোগও এলোমেলো হতে শুরু করে। হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময়
প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ব্যবহারের কথা বলতে গেলে খারাপ আবহাওয়ার জন্য আলাদা
প্রস্তুতির কথা না বললেই না। ওয়াটারপ্রুফ রাইডিং জ্যাকেট বা রেইন সুট শুধু ভেজা
থেকে বাঁচায় না, শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখে যেটা দীর্ঘ রাইডে মনোযোগ ঠিক রাখার
জন্য দরকার।
আর ওয়াটারপ্রুফ গ্লাভস না থাকলে হাত ভিজে হ্যান্ডেলের grip আলগা হয়ে যায়-সেই
মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারানো মানে সরাসরি বিপদ। ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টিতে হেলমেটের
ভিজরটা সবচেয়ে বড় বন্ধু হয়ে ওঠে, কারণ সেটা না থাকলে চোখে বৃষ্টির ফোঁটা এসে
দৃষ্টি ঝাপসা করে দেয় আর সামনের রাস্তা দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এছাড়া বুটের কথাও মাথায় রাখতে হবে-সাধারণ জুতা ভিজে গেলে পা পিচ্ছিল হয়,
গিয়ার বদলাতে বা ব্রেক চাপতে সমস্যা হয়, কিন্তু ওয়াটারপ্রুফ রাইডিং বুটে সেই
সমস্যাটা থাকে না। মানে শুধু রোদের দিনের জন্য তৈরি থাকা না, বরং যেকোনো
পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা। আকাশ দেখে বের হওয়া যায়, কিন্তু আকাশের উপর
ভরসা রেখে গিয়ার বাদ দেওয়া যায় না।
অতিরিক্ত সেফটি আইটেম যা আপনি সাথে রাখবেন
হেলমেট, জ্যাকেট, গ্লাভস-এগুলো তো আছেই, কিন্তু হাইওয়েতে দীর্ঘ রাইডে কিছু ছোট
ছোট জিনিস সাথে না থাকলে বিপদে পড়লে সেগুলোর অভাব টের পাওয়া যায় খুব বাজেভাবে।
প্রথমেই বলব একটা বেসিক ফার্স্ট এইড কিটের কথা-ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, আর
কয়েকটা গজ থাকলে ছোটখাটো কাটাছেঁড়া জায়গাতেই সামলানো যায়, হাসপাতাল খোঁজার আগ
পর্যন্ত। এরপর একটা ভালো মানের টায়ার প্রেশার গেজ আর ছোট পাম্প-হাইওয়েতে টায়ার
আস্তে আস্তে চুপসে যাওয়া বোঝাই যায় না, কিন্তু কম প্রেশারে বাইকের নিয়ন্ত্রণ
হারানোর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
একটা emergency contact card মানিব্যাগে রাখুন যেখানে রক্তের গ্রুপ, কাছের
মানুষের নম্বর আর অ্যালার্জির তথ্য লেখা আছে-দুর্ঘটনায় আপনি যদি কথা বলতে না
পারেন, এই কার্ডটাই কথা বলবে। আর একটা ছোট টর্চলাইট বা headlamp, কারণ রাতে
হাইওয়েতে বাইক বিগড়ে গেলে অন্ধকারে কিছু করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই
জিনিসগুলো ব্যাগে থাকলে জায়গাও বেশি নেয় না, কিন্তু দরকারের সময় এগুলোই
সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
সত্যি বলতে, এই লেখাটা লিখতে বসে বারবার মনে হচ্ছিল-এই কথাগুলো আসলে সবাই কমবেশি
জানে। কিন্তু জানা আর মানা এক জিনিস না। রাস্তায় প্রতিদিন দেখি-হেলমেট
হ্যান্ডেলে ঝুলছে, মাথায় নেই। জ্যাকেট বাইকের পেছনে বাঁধা, গায়ে নেই। গ্লাভস
কেনা আছে, বাড়িতে রাখা। এই অভ্যাসগুলো বদলানো কঠিন, কিন্তু অসম্ভব না। হাইওয়েতে
একটা দুর্ঘটনা আপনার জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে-শুধু আপনার না, আপনার
পরিবারেরও। সেফটি গিয়ার পরাটা দুর্বলতা না, বরং এটা সেই মানুষের কাজ যে বোঝে যে
রাস্তায় সব কিছু তার হাতে নেই। বাইক চালান, উপভোগ করুন, দূরে যান-কিন্তু
প্রতিবার বাড়ি ফিরে আসুন। এটুকুই চাওয়া।



অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url