এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর উপায়


এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর উপায় সম্পর্কে এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানাবো। ইন্টারনেট ধীর হওয়ার কারণ, ফোনের কোন সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে এবং কীভাবে স্পিড ভালো রাখা যায় এসব বিষয় জানা যাবে।

এছাড়াও নেটওয়ার্ক সেটিংস, ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা, ক্যাশে ও সঠিক নেটওয়ার্ক মোড সম্পর্কে সহজ কিছু কার্যকর নিয়ম জানানো হবে। পুরো আর্টিকেলটি পড়লে এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

পেজ সূচিপত্রঃ  এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর উপায়

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর উপায়

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর উপায় জানতে চান? বর্তমানে মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস, ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজ করা হয়। কিন্তু ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেলে এসব কাজ করতে গিয়ে বিরক্তির সৃষ্টি হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজেও সমস্যা হতে পারে।

মূলত দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল, ভুল নেটওয়ার্ক সেটিংস, ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত ডাটা ব্যবহার এবং ফোনে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় ফাইলের কারণে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। তাই কিছু সহজ সেটিংস পরিবর্তন ও নিয়ম মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই ইন্টারনেটের পারফরম্যান্স ভালো করা সম্ভব।

এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর কার্যকর উপায়, নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তনের নিয়ম, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ডাটা ব্যবহার বন্ধ করা এবং দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস সঠিকভাবে পরিবর্তন করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড ভালো রাখার জন্য প্রথমেই ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস সঠিকভাবে পরিবর্তন করা জরুরি। অনেক সময় ফোনে ভুল নেটওয়ার্ক মোড নির্বাচন করা থাকলে ভালো নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেট ধীর মনে হতে পারে। তাই আপনার এলাকায় যে নেটওয়ার্ক সবচেয়ে ভালো কাজ করে, সেটি নির্বাচন করুন।

আরো পড়ুনঃ বিদ্যুৎ তৈরি করতে কি প্রয়োজন বিস্তারিত জানুন

এক্ষেত্রে ফোনের Settings থেকে Mobile Network বা SIM Card & Mobile Network অপশনে যেতে হবে। এরপর আপনার ব্যবহৃত সিমটি নির্বাচন করে Preferred Network Type অপশনে প্রবেশ করুন। সেখানে 4G/5G সমর্থন থাকলে আপনার সিম ও ফোন অনুযায়ী 4G বা 5G নেটওয়ার্ক নির্বাচন করতে পারেন।

তবে সব এলাকায় 5G নেটওয়ার্ক সমানভাবে ভালো নাও হতে পারে। যদি 5G সিগন্যাল দুর্বল হয় এবং বারবার 5G ও 4G-এর মধ্যে নেটওয়ার্ক পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে ইন্টারনেট ধীর হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন অবস্থায় 4G/LTE ব্যবহার করে দেখলে অনেক সময় সংযোগ আরও স্থিতিশীল পাওয়া যায়।

এছাড়াও ইন্টারনেট হঠাৎ ধীর হয়ে গেলে একবার Airplane Mode চালু করে কয়েক সেকেন্ড পর বন্ধ করে দিতে পারেন। এর মাধ্যমে ফোনের নেটওয়ার্ক সংযোগ নতুন করে তৈরি হয়। প্রয়োজনে ফোনটি একবার রিস্টার্ট করেও দেখতে পারেন।

সবশেষে মনে রাখবেন, শুধু নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তন করলেই সব সময় ইন্টারনেটের গতি বেড়ে যাবে এমন নয়। আপনার এলাকার নেটওয়ার্ক কভারেজ, সিমের মান, ইন্টারনেট প্যাকেজ এবং একই সময়ে কতজন ব্যবহারকারী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন এসব বিষয়ও ইন্টারনেটের গতির ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এসব বিষয়ও খেয়াল রাখা জরুরি।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করুন

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড ভালো রাখার জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করা একটি কার্যকর উপায়। অনেক অ্যাপ আপনি ব্যবহার না করলেও ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে থাকে। এর ফলে আপনার মোবাইল ডাটা খরচ হয় এবং নেটওয়ার্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বলতে বোঝায়, আপনি কোনো অ্যাপ সরাসরি ব্যবহার না করলেও সেই অ্যাপ ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য আপডেট বা সিঙ্ক করতে থাকে। যেমন কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও অ্যাপ বা অন্যান্য অ্যাপ নতুন নোটিফিকেশন, ছবি ও অন্যান্য তথ্য আপডেট করার জন্য নিয়মিত ডাটা ব্যবহার করতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করতে প্রথমে ফোনের Settings অপশনে যান। এরপর Apps বা App Management থেকে যে অ্যাপটি বেশি ডাটা ব্যবহার করছে সেটি নির্বাচন করুন। তারপর Mobile Data & Wi-Fi বা একই ধরনের অপশনে গিয়ে Background Data বন্ধ করে দিতে পারেন।

তবে সব অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করার দরকার নেই। যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশন বা রিয়েল-টাইম আপডেট আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা চালু রাখাই ভালো। অপ্রয়োজনীয় বা খুব কম ব্যবহার করেন এমন অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে এই সেটিংস পরিবর্তন করতে পারেন।

এর ফলে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় ডাটা ব্যবহার কিছুটা কমবে এবং আপনার মোবাইল ডাটাও সাশ্রয় হবে। বিশেষ করে সীমিত ডাটা প্যাকেজ ব্যবহার করলে এটি বেশ কাজে আসে। তবে মনে রাখবেন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করলেই সরাসরি ইন্টারনেটের মূল স্পিড বেড়ে যাবে না; বরং অপ্রয়োজনীয় ডাটা ব্যবহার কমিয়ে আপনার সংযোগকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করবে।

ফোনের ক্যাশে ও অপ্রয়োজনীয় ফাইল পরিষ্কার করুন

এন্ড্রয়েড ফোন দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে বিভিন্ন অ্যাপের ক্যাশে, অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং পুরোনো ডাটা ফোনের স্টোরেজে জমতে থাকে। এতে ফোনের স্টোরেজ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ফোন ধীর হয়ে যেতে পারে। ফোন ধীর হলে অনেক সময় ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময়ও ওয়েবসাইট বা অ্যাপ লোড হতে বেশি সময় লাগে।

ক্যাশে মূলত অ্যাপের সাময়িক কিছু ফাইল, ছবি বা অন্যান্য তথ্য জমিয়ে রাখে, যাতে পরবর্তীতে অ্যাপ দ্রুত কাজ করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যাশে জমতে থাকলে এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় ক্যাশে পরিষ্কার করলে ফোনের স্টোরেজে কিছু জায়গা খালি হয় এবং ফোনের পারফরম্যান্স ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ক্যাশে পরিষ্কার করতে প্রথমে ফোনের Settings অপশনে যান। এরপর Apps বা App Management থেকে যে অ্যাপটি বেশি স্টোরেজ ব্যবহার করছে সেটি নির্বাচন করুন। তারপর Storage বা Storage & Cache অপশনে গিয়ে Clear Cache নির্বাচন করুন। ফোনের মডেল অনুযায়ী অপশনের নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে।

এছাড়াও ফোনের Storage অপশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় বড় ফাইল, ডাউনলোড করা পুরোনো ফাইল এবং ব্যবহার না করা অ্যাপগুলো খুঁজে মুছে দিতে পারেন। তবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও বা ডকুমেন্ট মুছে ফেলার আগে অবশ্যই ভালোভাবে যাচাই করে নেবেন।

এভাবে নিয়মিত ফোনের অপ্রয়োজনীয় ফাইল ও ক্যাশে পরিষ্কার করলে স্টোরেজ খালি রাখা যায় এবং ফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স ভালো থাকতে পারে। তবে মনে রাখবেন, ক্যাশে পরিষ্কার করা সরাসরি মোবাইল নেটওয়ার্কের গতি বাড়ায় না; এটি মূলত ফোনকে তুলনামূলকভাবে দ্রুত ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে, যার ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও ভালো হতে পারে।

দ্রুত ইন্টারনেটের জন্য সঠিক নেটওয়ার্ক মোড নির্বাচন করুন

এ পর্যন্ত আপনারা ফোনের ইন্টারনেট স্পিড ভালো রাখার জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এবার দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য সঠিক নেটওয়ার্ক মোড নির্বাচন করা কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কে সহজভাবে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ফোনে নেটওয়ার্ক মোড সঠিকভাবে নির্বাচন করা না থাকলে ভালো সিগন্যাল থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেটের গতি কম মনে হতে পারে। সাধারণত ফোনে 2G, 3G, 4G এবং অনেক নতুন ফোনে 5G নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকে। আপনার ফোন, সিম এবং এলাকার নেটওয়ার্ক সুবিধা অনুযায়ী সঠিক মোড নির্বাচন করা উচিত।

নেটওয়ার্ক মোড পরিবর্তন করতে প্রথমে ফোনের Settings অপশনে যান। এরপর Mobile Network, SIM Card & Mobile Network বা একই ধরনের অপশনে প্রবেশ করুন। আপনার ব্যবহৃত সিম নির্বাচন করে Preferred Network Type বা Network Mode অপশনে যান। সেখানে আপনার ফোন ও সিম সমর্থন করলে 4G বা 5G নির্বাচন করতে পারেন।

তবে সব সময় 5G নির্বাচন করলেই ইন্টারনেট দ্রুত হবে এমন নয়। আপনার এলাকায় যদি 5G সিগন্যাল দুর্বল থাকে, তাহলে ফোন বারবার 5G ও 4G নেটওয়ার্কের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারে। এতে সংযোগ অস্থির হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে 4G/LTE মোড ব্যবহার করে দেখলে অনেক সময় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ইন্টারনেট পাওয়া যায়।

তাই আপনার এলাকায় কোন নেটওয়ার্ক মোড সবচেয়ে ভালো কাজ করছে, সেটি পরীক্ষা করে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। একই সঙ্গে সিমের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও ইন্টারনেট প্যাকেজও ভালোভাবে যাচাই করুন। কারণ নেটওয়ার্ক মোড সঠিকভাবে নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইন্টারনেটের প্রকৃত গতি অনেকটাই নির্ভর করে আপনার অপারেটরের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সিগন্যালের ওপর।

সিম ও ইন্টারনেট প্যাকেজের মান যাচাই করুন

আপনারা ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর জন্য নেটওয়ার্ক সেটিংস পরিবর্তন, ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ করা, ক্যাশে পরিষ্কার করা এবং সঠিক নেটওয়ার্ক মোড নির্বাচন করার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এবার ইন্টারনেটের গতি ভালো রাখতে সিম ও ইন্টারনেট প্যাকেজের মান যাচাই করা কেন জরুরি এবং এটি কীভাবে করবেন, সে সম্পর্কে সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক।

অনেক সময় ফোনে কোনো সমস্যা না থাকলেও সিমের নেটওয়ার্ক কভারেজ দুর্বল হওয়ার কারণে ইন্টারনেট ধীর হতে পারে। বিশেষ করে আপনি যদি এমন এলাকায় থাকেন যেখানে সিগন্যাল দুর্বল বা নেটওয়ার্কে অনেক বেশি চাপ থাকে, তাহলে ভালো ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত গতি নাও পেতে পারেন।

তাই প্রথমে আপনার সিমের নেটওয়ার্ক সিগন্যাল কেমন, সেটি খেয়াল করুন। একই জায়গায় অন্য কোনো সিমের ইন্টারনেট তুলনামূলক দ্রুত কাজ করলে বুঝতে পারবেন আপনার বর্তমান সিমের নেটওয়ার্ক কভারেজ সেখানে ভালো নয়। প্রয়োজনে আপনার এলাকায় যে অপারেটরের নেটওয়ার্ক ভালো কাজ করে, সেই অপারেটরের সিম ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

ইন্টারনেট প্যাকেজের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্যাকেজে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডাটা ব্যবহারের পর স্পিড কমিয়ে দেওয়া হতে পারে, আবার কিছু প্যাকেজ নির্দিষ্ট অ্যাপ বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেশি সুবিধা দিতে পারে। তাই প্যাকেজ কেনার আগে কত জিবি ডাটা, কতদিনের মেয়াদ এবং কোনো স্পিড সীমাবদ্ধতা আছে কি না এসব বিষয় ভালোভাবে দেখে নিন।

সবশেষে মনে রাখবেন, দ্রুত ইন্টারনেট পাওয়ার জন্য শুধু ফোনের সেটিংস ঠিক করলেই হবে না। ভালো নেটওয়ার্ক কভারেজ, উপযুক্ত সিম এবং আপনার ব্যবহারের সঙ্গে মিল রেখে ভালো একটি ইন্টারনেট প্যাকেজ বেছে নেওয়াও জরুরি। এসব বিষয় ঠিকভাবে যাচাই করলে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভালো হতে পারে।

স্মার্ট ফোন স্লো হয়ে গেলে  করনীয়

বর্তমানে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার করার পর অনেক সময় ফোন আগের মতো দ্রুত কাজ করে না, অ্যাপ খুলতে সময় লাগে, হ্যাং করে বা একসঙ্গে কয়েকটি কাজ করতে গেলে ধীর হয়ে যায়। সাধারণত ফোনের স্টোরেজ প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত অ্যাপ, পুরোনো সফটওয়্যার এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ চলার কারণে এমন সমস্যা হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ প্রোগ্রামিং কি প্রোগ্রামিং এর মৌলিক ধারণা

তবে ফোন স্লো হয়ে গেলেই নতুন ফোন কেনার প্রয়োজন হয় না। কিছু সহজ ও বাস্তব উপায় অনুসরণ করে ফোনের পারফরম্যান্স অনেকটাই ভালো রাখা যায়। নিচে স্মার্টফোন স্লো হয়ে গেলে করণীয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো।


  • অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলুন: ফোনে যেসব অ্যাপ নিয়মিত ব্যবহার করেন না, সেগুলো আনইনস্টল করে দিন। এতে স্টোরেজ খালি হবে এবং ফোনের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে।
  • ফোনের স্টোরেজ খালি রাখুন: পুরোনো ভিডিও, ছবি, ডাউনলোড করা ফাইল এবং অপ্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট মুছে ফেলুন। স্টোরেজ একেবারে পূর্ণ হয়ে গেলে ফোনের স্বাভাবিক কাজেও সমস্যা হতে পারে।
  • অ্যাপের ক্যাশে পরিষ্কার করুন: দীর্ঘদিন ব্যবহারে বিভিন্ন অ্যাপের ক্যাশে জমে যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের স্টোরেজ থেকে ক্যাশে পরিষ্কার করলে কিছু জায়গা খালি হতে পারে।
  • ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপ কমিয়ে দিন: একসঙ্গে অনেক অ্যাপ চালু থাকলে র‍্যাম ও প্রসেসরের ওপর চাপ পড়ে। প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপ বন্ধ করে রাখুন।
  • ফোন নিয়মিত রিস্টার্ট করুন: মাঝে মাঝে ফোন রিস্টার্ট করলে অস্থায়ী কিছু সমস্যা দূর হতে পারে এবং সিস্টেম নতুন করে কাজ শুরু করে।
  • সফটওয়্যার ও অ্যাপ আপডেট করুন: ফোনের সফটওয়্যার এবং অ্যাপের আপডেট থাকলে সেগুলো ইনস্টল করুন। এতে বাগ ঠিক হওয়ার পাশাপাশি ফোনের স্থায়িত্বও ভালো হতে পারে।
  • ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচান: দীর্ঘ সময় গেম খেলা বা চার্জে থাকা অবস্থায় ভারী কাজ করলে ফোন গরম হতে পারে। অতিরিক্ত গরম হলে ফোনের পারফরম্যান্স সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।
  • অপ্রয়োজনীয় অ্যানিমেশন কমিয়ে দিন: ফোন পুরোনো বা কম ক্ষমতার হলে অতিরিক্ত অ্যানিমেশন বন্ধ বা কমিয়ে দিলে ফোন ব্যবহারের সময় কিছুটা দ্রুত অনুভব হতে পারে।
  • শেষ উপায় হিসেবে ফ্যাক্টরি রিসেট করুন: ফোন খুব বেশি স্লো হয়ে গেলে এবং অন্য কোনো উপায়ে কাজ না হলে ফ্যাক্টরি রিসেট করা যেতে পারে। তবে এর আগে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও, পরিচিতি ও ফাইলের ব্যাকআপ নিয়ে নিতে হবে।

উপসংহারঃ এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর উপায়

এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর উপায় সম্পর্কে আপনাদের উপরে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে। আপনারা যদি পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে থাকেন, তাহলে নেটওয়ার্ক সেটিংস সঠিকভাবে পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা বন্ধ, ক্যাশে পরিষ্কার এবং সঠিক নেটওয়ার্ক মোড নির্বাচন করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জানতে পেরেছেন।

তাই ফোনের ইন্টারনেট ধীর হয়ে গেলে অযথা চিন্তা না করে উপরে উল্লেখ করা নিয়মগুলো ধাপে ধাপে অনুসরণ করতে পারেন। পাশাপাশি ভালো নেটওয়ার্ক কভারেজ ও উপযুক্ত ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করলে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে। আশা করি, এই তথ্যগুলো আপনাদের এন্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনেট স্পিড ভালো রাখতে কাজে আসবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url