শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুর্বপূর্ণ। কারন এই রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার জানতে পারলে আমাদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব বহন করবে।
কারন শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে যদি আমরা না জানি বা সচেতন না হই তাহলে সময়মত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হবে না এবং ফলশ্রুতিতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর অবস্থা মারাত্নক আকার ধারন করতে পারে। তাই আমাদের সবারই শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে ধারনা রাখা খুবই প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। তাহলে চলুন আমরা শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী অবস্থায় কি ধরনের সমস্যা দেখা দেয়-এসব সমস্যা দূর করার উপায়
পেজ সূচিপত্রঃ শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
- শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
- নিউমোনিয়া কি
- শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ
- শিশুর নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার
- শিশুর নিউমোনিয়া রোগের প্রতিরোধ
- শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি
- শেষ কথা ঃ শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
বাংলাদেশে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময়টাতে সর্দি-কাশি বা ফ্লয়ের পরিবর্তন ঘটে। তবে শীতকালেই শিশুরা নিউমোনিয়া রোগে বেশি আক্রান্ত হয় । চিকিৎসকদের মতে শীতকালে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যায় । বিশ্বজুড়ে শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারন নিউমোনিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতিবছর ৫ বছরের কমবয়সী শিশু মৃত্যুর ১৪ শতাংশ হয়ে থাকে শুধুমাত্র নিউমোনিয়ার কারনে।
নিউমোনিয়া একটি সংক্রামক রোগ। শ্বাস যন্ত্রের তীব্র সংক্রমনের ফলে ফুসফুস আক্রান্ত হয়, ভাইরাস ব্যাটেরিয়া ফাংগাসসহ নানা ধরনের সংক্রামক জীবানুর কারনে নিউমোনিয়া হতে পারে। এছাড়াও টিবি রোগের জীবানুর কারনেও নিউমোনিয়া হয়। শিশুর নিউমোনিয়া রোগের সাধারন উপসর্গ গুলো হলো শিশুর জ্বর যদি মাঝারি থেকে তীব্র হয়, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসকষ্ট বেশি হলে শিশু খাওয়া বন্ধ করে দেয়, শ্বাস- প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাবে, নাকের ছিদ্র বড় বড় করে শ্বাস নিবে, মেজাজ খিটখিটে ভাব হবে, শরীরে অক্সিজেন কমে গেলে মাথা ঝাকাতে থাকবে এমনকি শরীর নীল হয়ে যেতে পারে, বুক ভেতরের দিকে দেবে যায় এবং শিশুর শরীর নিস্তেজ হয়ে যায় এই ধরনের যে কোনো লক্ষণগুলো দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
শিশুর ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে এছাড়া ৬ মাসের পর মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি সুষম পুষ্ঠিগুণ সম্পন্ন বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে যেন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। শিশুর সব টিকা নেওয়া হয়েছে কিনা অবশ্যই সেটা খেয়াল করতে হবে। নিউমোনিয়া রোগের টিকা দিতে হবে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া,পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অথাৎ ঘর-বাড়ি ধূলা-বালিমুক্ত ও দূষণমুক্ত রাখা জরুরী। বড়দের তুলনায় ছোটদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে তাই শিশুর যত্ন নেওয়ার সময় বেশি সতর্ক থাকতে হয়, গরম অথবা ঠান্ডা দুই সময়ই খেয়াল রাখতে হবে শিশুদের যেন অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম না লাগে। সচেতন থাকলে শিশুদের নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
নিউমোনিয়া কি
নিউমোনিয়া হচ্ছে ফুসফুসের সংক্রমণ জনিত একটি রোগ। ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক এর আক্রমণে ফুসফুসের বায়ুথলি তরল অথবা পুঁজে ভরে যায়। ফলে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাতে বাঁধা তৈরি হয়। তখন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এই সংক্রমণ দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে
বিশেষত অপুষ্ট শিশু, নবজাতক, অকালে জন্ম নেওয়া শিশু এবং যাদের নিয়মিতভাবে টিকা প্রদান করা হয়নি এই ধরনের শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ
নিউমোনিয়ার সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হল এর প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ সর্দি কাশির মত মনে হয়। ফলে অভিভাবকেরা বিষয়টি খুব সাধারন ভাবে দেখেন। কিন্তু কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখা মাত্রই অভিভাবকদের সচেতন হয়ে ওঠা জরুরি।
শিশুর জ্বর, অবিরত কাশি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস কিংবা শ্বাস নিতে গিয়ে প্রচন্ড কষ্ট পাওয়া নিউমোনিয়ার সাধারণ লক্ষণ। বুক ভেতরের দিকে দেবে যাবে, নাক ফুলে ফুলে নিঃশ্বাস নেবে, শ্বাসের সময় শব্দ হবে এ লক্ষণগুলো বিপদের ইঙ্গিত দেয়। অনেক সময় শিশুর ঠোঁট কালো বা নীলচে হয়ে যেতে পারে যা অক্সিজেনের ঘাটতির প্রধান লক্ষণ। নিউমোনিয়ার লক্ষণ চিনুন, শিশুর জীবন বাঁচান ।
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের প্রতিকার
সাধারণত রোগের কারণ, শিশুর বয়স ও অবস্থার ওপর নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে। ব্যাকটেরিয়া জনিত নিউমোনিয়ায় এন্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়। ভাইরাল নিউমোনিয়ায় সহায়ক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন, স্যালাইন কিংবা বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। তবে চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়িতে সঠিক যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, উষ্ণ ও ধোঁয়া মুক্ত পরিবেশে রাখা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত তরল খাবার এই সময় প্রদান করতে হবে এবং পাশাপাশি বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে। কারণ এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপক সাহায্য করে। অসুস্থ শিশু শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের স্পর্শ ,বাবার স্নেহ, পরিবারের শান্ত পরিবেশ এসবই শিশুর দ্রুত আরোগ্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসা ও যত্নের সমন্বয়ে হতে পারে শিশুর নিউমোনিয়া রোগের সুন্দর প্রতিকার ।
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের প্রতিরোধ
সচেতনতা নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। নিয়মিত টিকাদান নিউমোনিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, বিশুদ্ধ পানি পান করা, নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরী। ঘরের ভেতরের রান্নার ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া শিশুর ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। প্রতিরোধেই হতে পারে শিশুর নিউমোনিয়া রোগের সর্বোত্তম চিকিৎসা।
শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি
সচেতনতাই পারে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর জীবন বাঁচাতে। পৃথিবীতে প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে তার শিশুর সুস্থতা সবচেয়ে বেশি জরুরী। আর সেই শিশু যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে বাবা-মা সহ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। মায়ের কোলের শিশুটি যখন স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারেনা, নিঃশ্বাসের শব্দে বুক ভারী হয়ে উঠে, বুক ভেতরে দেবে যায় তখন শুধু একটি পরিবার নয়, একটি সমাজেরও সতর্ক হয়ে ওঠা প্রয়োজন।
কারণ নিউমনিয়া শিশুদের জন্য এক নিরব ভয়ংকর ঘাতকের মতই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে নিউমোনিয়া। অথচ সময় মত সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটোই সম্ভব।
গ্রাম অঞ্চল অথবা শহরের বস্তি এলাকায় অসচেতনতার কারণে নিউমোনিয়াকে সাধারণ ঠান্ডা লাগা ভেবে অবহেলা করা হয়। অথবা নিজেই কিছু ঠান্ডার ঔষধ কিনে এনে চিকিৎসা শুরু করে দেয়। এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভুল ঔষধ বা দেরিতে চিকিৎসা হতে পারে শিশুর জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ। তখন এই অবহেলার মূল্য দিতে হয় চরমভাবে। তাই মনে রাখতে হবে, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া শিশুদের কোনোরকম ওষুধ দেওয়া যাবেনা।
আরও পড়ুনঃ রমজান মাসের সেহরী ও ইফতারের সময়সূচী - ২০২৬
শেষ কথা ঃ শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
একটি শিশু হচ্ছে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যৎ কে রক্ষা করার দায়িত্ব শুধু বাবা-মা নয়, পুরো সমাজের। নিউমোনিয়া ভয়ংকর হলেও অপরাজয়ও কোন শক্তি নয়। সঠিক জ্ঞান, সময় মত সিদ্ধান্ত এবং আন্তরিক যত্নই হতে পারে শিশুর সুস্থ নিঃশ্বাস এবং সুন্দর জীবনের হাসি। শিশুর নিঃশ্বাস যেন কখনো অবহেলার শিকার না হয় এটাই হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।



অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url