মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায়
মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায় খুঁজছেন? হঠাৎ স্ক্রিনে সবুজ লাইন দেখা দিলে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান। ভালো খবর হলো, কিছু সহজ পদক্ষেপে সমস্যাটি কমানো বা শনাক্ত করা সম্ভব।
সফটওয়্যার সেটিংস থেকে শুরু করে ডিসপ্লে চেক করার কার্যকর উপায়গুলো এখানে তুলে
ধরা হয়েছে। কখন ঘরে বসে সমাধান করা যাবে আর কখন সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে, সেটাও
জানতে পারবেন। অযথা টাকা খরচ করার আগে এই আর্টিকেলটি একবার দেখে নিন।
পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায়
- মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায়
- স্ক্রিনে সবুজ দাগ পড়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে
- প্রথমে রিস্টার্ট করে দেখুন ফলাফল কেমন হয়
- সেফ মোডে গিয়ে চেক করার সহজ পদ্ধতি
- সফটওয়্যার আপডেট করে দাগ কমানো যায় কিনা
- স্ক্রিনে চাপ বা আঘাতের কারণে দাগ দেখা দেয়
- ফ্যাক্টরি রিসেট করার আগে যেসব সতর্কতা নেবেন
- হার্ডওয়্যার সমস্যা হলে কি করবেন
- ডিসপ্লে পরিবর্তনের খরচ আর কোথায় করাবেন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায়
মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায় এ কিছু টিপস জানুন। ফোনটা তুলে
স্ক্রিনের দিকে তাকালেন, আর দেখলেন একটা সরু সবুজ দাগ উপর থেকে নিচ পর্যন্ত চলে
গেছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল, তাই না? মাথায় আসছে-এখন কি সার্ভিসিং লাগবে? টাকা
খরচ হবে? থামুন। আগে কিছু সহজ জিনিস ট্রাই করুন।
প্রথমে বুঝুন-দাগটা কেন আসে? বেশিরভাগ সময় এই সবুজ দাগ আসে ডিসপ্লের পিক্সেল
নষ্ট হলে, ফোন পড়ে গেলে বা চাপ লাগলে, অনেকক্ষণ রোদে বা গরমে রাখলে, আর কখনো
কখনো সফটওয়্যার সমস্যা থেকেও। মানে, মাঝে মাঝে এটা আসলে হার্ডওয়্যারের সমস্যা
না-শুধু একটু সেটিংস ঠিক করলেই ঠিক হয়ে যায়।
যা যা করে দেখতে পারেনঃ
- ফোন রিস্টার্ট দিন-শুনতে হাসির মতো লাগছে, কিন্তু সত্যি বলছি-অনেক সময় এই একটা কাজেই সমস্যা চলে যায়। ফোন বন্ধ করুন, ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন, আবার চালু করুন।
- ডিসপ্লে সেটিংস চেক করুন-Settings-এ যান, Display বা ডিসপ্লে অপশনে ঢুকুন। Color Mode বা Screen Mode যদি কোনো কারণে পালটে গিয়ে থাকে, সেটা আবার ডিফল্টে নিয়ে আসুন। অনেকের ফোনে "Vivid" বা "Natural" মোড থাকে-সেটা একবার বদলে দেখুন।
- ফোন আপডেট করুন-পুরনো সফটওয়্যারে মাঝেমধ্যে ডিসপ্লে বাগ থাকে। Settings গিয়ে Software Update চেক করুন। যদি আপডেট থাকে, দিয়ে দিন।
- ফোন একটু ঠান্ডা হতে দিন-ফোন অনেকক্ষণ ব্যবহার করলে বা রোদে থাকলে গরম হয়ে যায়। গরম ডিসপ্লেতে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছুক্ষণ ফোন রেখে দিন, ঠান্ডা হলে দেখুন দাগ থাকে কিনা।
- Factory Reset-শেষ অস্ত্র-যদি উপরের কোনো কিছুতেই কাজ না হয়, তাহলে Factory Reset দিতে পারেন। তবে এর আগে অবশ্যই ফোনের সব ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে নিন। এটা মূলত সফটওয়্যার সমস্যা সমাধান করে।
কখন সার্ভিস সেন্টারে যাবেন? উপরের সব করার পরেও যদি দাগ না যায়, তাহলে বুঝতে
হবে সমস্যাটা ভেতরে-ডিসপ্লে প্যানেলে। এটা ঘরে বসে ঠিক করার উপায় নেই। সার্ভিস
সেন্টারে নিয়ে যান। ফোন যদি ওয়ারেন্টিতে থাকে, আরও ভালো-হয়তো বিনামূল্যেই
ঠিক হয়ে যাবে। সহজ কথা হলো-আগে নিজে চেষ্টা করুন, তারপর বিশেষজ্ঞের কাছে যান।
অনেক সময় ছোট সমস্যাকে বড় মনে হয়, কিন্তু একটু মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করলে
সমাধান বেরিয়ে আসে।
স্ক্রিনে সবুজ দাগ পড়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে
একদিন সকালে উঠে ফোন হাতে নিলেন, আর দেখলেন স্ক্রিনে একটা সরু সবুজ দাগ। কোথা
থেকে এলো? কিছুই করেননি, ফোন পড়েওনি-তবু এই দাগ। বিশ্বাস করুন, এই অনুভূতিটা
অনেকেরই চেনা। আসলে এই দাগের পেছনে একটা না, কয়েকটা কারণ থাকতে পারে। আর
কারণটা না জানলে সমাধানও খুঁজে পাবেন না। তাই আগে বোঝা দরকার-ভেতরে আসলে কী
ঘটছে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ডিসপ্লের পিক্সেল নষ্ট হয়ে যাওয়া। আপনার
স্ক্রিনে লক্ষ লক্ষ ছোট ছোট পিক্সেল আছে, যেগুলো মিলে ছবি তৈরি করে। এর মধ্যে
একটা সারি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তাহলে সেখানে একটা রঙিন দাগ দেখা যায়। আর
সেটা প্রায়ই সবুজ হয়।
ফোন হাত থেকে পড়ে গেলে বা ব্যাগের ভেতরে চাপ লাগলেও এই সমস্যা হতে পারে। অনেক
সময় আঘাতটা এতটাই হালকা থাকে যে বুঝতেই পারেন না-কিন্তু ভেতরে ডিসপ্লে
প্যানেলে একটা চাপ পড়ে যায়। সেই চাপ থেকেই পরে দাগ দেখা দেয়। অতিরিক্ত গরমও
কিন্তু বড় একটা কারণ। রোদের মধ্যে ফোন ফেলে রাখলে বা টানা অনেকক্ষণ চার্জে
দিয়ে ব্যবহার করলে ডিসপ্লে গরম হয়ে যায়। আর সেই তাপ থেকে স্ক্রিনের ভেতরের
সংযোগগুলো আলগা হতে শুরু করে, যেটা পরে এই সবুজ দাগ হিসেবে দেখা দেয়।
প্রথমে রিস্টার্ট করে দেখুন ফলাফল কেমন হয়
স্ক্রিনে সবুজ দাগ দেখে অনেকেই সরাসরি সার্ভিস সেন্টারের কথা ভাবেন। কিন্তু
মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায় অনেক সময় এতটাই সহজ যে শুনলে অবাক
হবেন। একটা সাধারণ রিস্টার্ট দিয়েই সমস্যাটা চলে যেতে পারে। হ্যাঁ, সত্যিই বলছি।
আসলে আপনার ফোনও ঠিক আপনার মতো-একটানা কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়।
ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক অ্যাপ চলতে থাকে, ডিসপ্লে ড্রাইভার মাঝে মাঝে আটকে যায়, আর
সেখান থেকেই স্ক্রিনে অদ্ভুত দাগ বা রঙের সমস্যা দেখা দেয়। রিস্টার্ট দিলে এই সব
প্রসেস একবার বন্ধ হয়ে আবার নতুন করে শুরু হয়। অনেকটা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ
হওয়ার মতো।
রিস্টার্ট দেওয়ার সঠিক উপায়টাও জানা দরকার। শুধু স্ক্রিন বন্ধ করে আবার চালু
করলে হবে না-পাওয়ার বাটন চেপে ধরে পুরোপুরি "Restart" বা "Reboot" অপশনটা বেছে
নিন। এরপর ফোন পুরোপুরি বন্ধ হলে অন্তত ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন, তারপর আবার চালু
করুন। এই ছোট্ট বিরতিটাই আসল কাজ করে।
রিস্টার্টের পর যদি দাগ চলে যায়, তাহলে বুঝবেন সমস্যাটা সফটওয়্যারে ছিল। আর যদি
দাগ থেকেই যায়, তাহলে একটু গভীরে যেতে হবে-ডিসপ্লে সেটিংস চেক করা, আপডেট
দেওয়া, এই ধাপগুলো একে একে ট্রাই করতে হবে। তবে রিস্টার্টটা সবসময় প্রথম ধাপ
হওয়া উচিত, কারণ এটা সহজ, দ্রুত আর বেশিরভাগ সময় কাজেও দেয়।
সেফ মোডে গিয়ে চেক করার সহজ পদ্ধতি
আপনি কি জানেন, আপনার ফোনে একটা গোপন মোড আছে যেটা দিয়ে অনেক সমস্যার কারণ ধরা
যায়? হ্যাঁ, এটাকেই বলে সেফ মোড। অনেকে এই অপশনটার কথা জানেনই না, অথচ এটা
ব্যবহার করলে বুঝতে পারবেন-আপনার স্ক্রিনের সবুজ দাগটা কোথা থেকে আসছে। একটু সময়
দিন, পুরো বিষয়টা বুঝিয়ে বলছি। সেফ মোড আসলে কী? সহজ ভাষায় বললে-এটা আপনার
ফোনের একটা "বেসিক ভার্সন।" এই মোডে ঢুকলে আপনার ডাউনলোড করা সব থার্ড-পার্টি
অ্যাপ বন্ধ হয়ে যায়, শুধু ফোনের নিজস্ব অ্যাপগুলো চালু থাকে। এতে করে বোঝা
যায়, কোনো বাইরের অ্যাপ আপনার ডিসপ্লেতে সমস্যা তৈরি করছে কিনা। অনেকটা
গোয়েন্দার মতো কাজ করে এই মোড।
সেফ মোডে ঢোকার পদ্ধতিটা কিন্তু খুব সহজ। আপনার ফোনের পাওয়ার বাটন চেপে ধরুন,
স্ক্রিনে "Power Off" অপশন আসবে। এবার সেই "Power Off" লেখার উপর আঙুল চেপে ধরে
রাখুন-কয়েক সেকেন্ড পরে "Reboot to Safe Mode" বা "Safe Mode" অপশন দেখাবে।
সেটায় ট্যাপ করুন, ফোন রিস্টার্ট হয়ে সেফ মোডে চলে আসবে। স্ক্রিনের নিচের
কোণায় "Safe Mode" লেখা দেখতে পাবেন। এখন আসল পরীক্ষার সময়। সেফ মোডে ঢোকার পর
একটু অপেক্ষা করুন আর দেখুন-সবুজ দাগটা আছে কিনা। যদি দাগ চলে যায়, তাহলে বুঝবেন
কোনো একটা অ্যাপ এই সমস্যা তৈরি করছে।
আর যদি দাগ থেকেই যায়, তাহলে সমস্যাটা হার্ডওয়্যারে বা ফোনের
সিস্টেমে-সেক্ষেত্রে একটু অন্যভাবে এগোতে হবে। সেফ মোড থেকে বের হওয়াও কিন্তু
একদম সহজ। শুধু ফোন রিস্টার্ট দিন, আপনা-আপনি নরমাল মোডে ফিরে আসবে। আর যদি সেফ
মোডে দাগ না দেখা যায়, তাহলে একে একে আপনার ইন্সটল করা অ্যাপগুলো আনইন্সটল করে
দেখুন-কোনটা সরালে সমস্যা ঠিক হয়, সেটাই আসল দোষী। এই একটা পদ্ধতি জানলে অনেক
সময় সার্ভিস সেন্টারের ঝামেলাই এড়ানো যায়।
সফটওয়্যার আপডেট করে দাগ কমানো যায় কিনা
অনেকেই ভাবেন, স্ক্রিনের দাগ মানেই হার্ডওয়্যারের সমস্যা। কিন্তু সত্যি কথা হলো,
সফটওয়্যার বাগের কারণেও ডিসপ্লেতে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফোন
কোম্পানিগুলো নিজেরাই মাঝে মাঝে স্বীকার করে যে পুরনো সফটওয়্যারে
ডিসপ্লে-সংক্রান্ত বাগ থাকে। তাই আপডেট দেওয়াটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ-এটা
এড়িয়ে যাওয়া ঠিক না। আপডেট আসলে কী করে? সহজ করে বললে-এটা আপনার ফোনের ভেতরের
ছোট ছোট ভুলগুলো ঠিক করে দেয়। ডিসপ্লে ড্রাইভার, কালার ম্যানেজমেন্ট, স্ক্রিন
রিফ্রেশ রেট-এই সব কিছু সফটওয়্যার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হয়। কোনো একটায় সমস্যা
থাকলে স্ক্রিনে অদ্ভুত দাগ বা রঙের গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে।
আপডেট দিলে এই সমস্যাগুলো অনেক সময় একটানে ঠিক হয়ে যায়। আপডেট চেক করার
পদ্ধতিটাও জেনে নিন। Settings-এ যান, তারপর "Software Update" বা "System Update"
অপশনে ঢুকুন। "Check for Updates" বাটনে ট্যাপ করুন-যদি নতুন আপডেট থাকে, সেটা
নামিয়ে ইন্সটল করুন। মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায় হিসেবে এই
একটা কাজ অনেক সময় চমক দেখায়, যেটা আগে কেউ ভাবেনি। আপডেট দেওয়ার আগে একটা কাজ
অবশ্যই করবেন-ফোনের ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে নিন।
বেশিরভাগ সময় আপডেটে কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু সতর্ক থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ।
আপডেটের পর ফোন রিস্টার্ট হবে, আর তখনই দেখতে পাবেন দাগটা আছে কিনা। যদি চলে
যায়, তাহলে তো কেল্লাফতে-আর না গেলে পরের ধাপে যেতে হবে।
স্ক্রিনে চাপ বা আঘাতের কারণে দাগ দেখা দেয়
আপনি হয়তো মনে করছেন, ফোন তো পড়েনি-তাহলে দাগ এলো কীভাবে? আসলে আঘাত মানেই শুধু
ফোন মাটিতে পড়া না। ব্যাগের ভেতরে চাপ লাগা, পকেটে বসে গেলে চাপ পড়া, এমনকি
ফোনের উপর কিছু রেখে দিলেও ভেতরে সূক্ষ্ম ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আর সেই ক্ষতিটা
সঙ্গে সঙ্গে বোঝা না গেলেও, কিছুদিন পর স্ক্রিনে সবুজ দাগ হিসেবে প্রকাশ পায়।
আধুনিক ফোনের ডিসপ্লে দেখতে শক্ত মনে হলেও ভেতরে কিন্তু অনেক সূক্ষ্ম আর নাজুক।
OLED বা AMOLED স্ক্রিনে লক্ষ লক্ষ ছোট্ট পিক্সেল থাকে, আর সেগুলো একটা পাতলা
কাচের স্তরের নিচে থাকে। মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায় খুঁজতে
গেলে আগে বুঝতে হবে-একটু চাপেই এই পিক্সেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
আর ক্ষতিগ্রস্ত পিক্সেল মানেই স্ক্রিনে অদ্ভুত রঙের দাগ। এখন প্রশ্ন হলো, এই
ধরনের আঘাতজনিত দাগ কি ঘরে বসে ঠিক করা যায়? সরাসরি উত্তর হলো-না, পুরোপুরি না।
তবে কিছু কাজ করলে দাগটা আর বাড়বে না। ফোনে ভালো মানের কভার লাগান, স্ক্রিন
প্রটেক্টর ব্যবহার করুন আর ব্যাগে রাখার সময় আলাদা পকেটে রাখুন। এতে বিদ্যমান
ক্ষতি আর ছড়াবে না।
তবে দাগ যদি ইতিমধ্যে বড় হয়ে গিয়ে থাকে বা স্ক্রিনের বড় অংশ জুড়ে ছড়িয়ে
পড়ছে, তাহলে আর দেরি না করে সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যান। ডিসপ্লে প্যানেল বদলানো
ছাড়া এই সমস্যার আর কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। হ্যাঁ, খরচ হবে-কিন্তু যত দেরি
করবেন, ক্ষতি তত বাড়বে আর খরচও বাড়তে পারে।
ফ্যাক্টরি রিসেট করার আগে যেসব সতর্কতা নেবেন
ফ্যাক্টরি রিসেট-নামটা শুনলেই একটু ভয় লাগে, তাই না? আর সেই ভয়টা একদম অযৌক্তিক
না। কারণ এই একটা কাজ করলে আপনার ফোনের সব কিছু-ছবি, কন্টাক্ট, অ্যাপ, সেটিংস-সব
মুছে যাবে। তাই রিসেট দেওয়ার আগে কিছু জরুরি কাজ সেরে নেওয়াটা একদম
বাধ্যতামূলক। তাড়াহুড়ো করলে পরে অনেক কিছু হারিয়ে আফসোস করতে হবে। সবার আগে
ব্যাকআপ নিন-এটা এক নম্বর কাজ। আপনার ফোনের ছবি, ভিডিও গুগল ফটোসে বা কম্পিউটারে
কপি করে রাখুন। কন্টাক্ট নম্বরগুলো গুগল অ্যাকাউন্টে সিঙ্ক করুন, গুরুত্বপূর্ণ
ডকুমেন্ট ক্লাউডে আপলোড করুন।
মোবাইলের ডিসপ্লেতে এই সবুজ দাগ কমানোর উপায় হিসেবে ফ্যাক্টরি রিসেট কাজ করলেও,
ব্যাকআপ ছাড়া এই পথে হাঁটলে ডেটা হারানোর ঝুঁকি থাকে। রিসেট দেওয়ার আগে আরেকটা
কাজ করুন-ফোনের চার্জ অন্তত ৮০ শতাংশের উপরে রাখুন। রিসেটের মাঝপথে চার্জ শেষ
হয়ে গেলে ফোন ব্রিক হয়ে যেতে পারে, মানে পুরোপুরি অকেজো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
থাকে। এছাড়া আপনার গুগল বা অ্যাপল আইডির পাসওয়ার্ড আগেই একটা কাগজে লিখে রাখুন,
কারণ রিসেটের পর লগইন করতে সেটা লাগবেই।
হার্ডওয়্যার সমস্যা হলে কি করবেন
রিস্টার্ট দিয়েছেন, সেফ মোডে চেক করেছেন, আপডেটও দিয়েছেন-তবু সবুজ দাগ যাচ্ছে
না। এই পর্যায়ে এসে বুঝতে হবে, সমস্যাটা আর সফটওয়্যারে নেই। ভেতরে কোথাও
হার্ডওয়্যারে সমস্যা হয়েছে। এটা শুনতে একটু কঠিন লাগলেও, সঠিক পদক্ষেপ নিলে
সমাধান কিন্তু আছে। প্রথম কাজ হলো একটা বিশ্বস্ত সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া।
আর এখানে "বিশ্বস্ত" শব্দটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার পাশের যেকোনো দোকানে দিয়ে
দিলেই হবে না-ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল সার্ভিস সেন্টার বা পরিচিত কেউ যেখানে যায়
এমন জায়গায় নিয়ে যান। নকল পার্টস দিয়ে মেরামত করলে সাময়িক ঠিক হলেও পরে আরও
বড় সমস্যা হতে পারে।
সার্ভিস সেন্টারে গেলে টেকনিশিয়ান সাধারণত দুটো সমাধান দেবেন-হয় ডিসপ্লে
প্যানেল বদলানো, নয়তো ফ্লেক্স ক্যাবল ঠিক করা। ডিসপ্লে আর মাদারবোর্ডের মধ্যে
একটা সরু তার থাকে যেটাকে ফ্লেক্স ক্যাবল বলে-সেটা আলগা হলেও সবুজ দাগ দেখা দেয়।
অনেক সময় শুধু এই ক্যাবলটা ঠিক করলেই কাজ হয়ে যায়, পুরো ডিসপ্লে বদলাতে হয়
না। ফোন যদি ওয়ারেন্টিতে থাকে, তাহলে আজই সেটা চেক করুন। ওয়ারেন্টি থাকলে হয়তো
বিনামূল্যে বা অনেক কম খরচে ডিসপ্লে ঠিক হয়ে যাবে। আর ওয়ারেন্টি না থাকলেও হতাশ
হবেন না-ডিসপ্লে বদলানোর খরচ এখন আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। সময়মতো ঠিক করালে
ফোনটা আরও কয়েক বছর ভালোভাবে চলবে।
ডিসপ্লে পরিবর্তনের খরচ আর কোথায় করাবেন
ডিসপ্লে বদলাতে হবে শুনলেই মাথায় আসে-কত টাকা লাগবে? এই প্রশ্নটা স্বাভাবিক,
কারণ অনেকেই মনে করেন ডিসপ্লে বদলানো মানেই বিশাল খরচ। আসলে খরচটা নির্ভর করে
আপনার ফোনের ব্র্যান্ড আর মডেলের উপর। বাজেট ফোনের ডিসপ্লে যেখানে ৮০০ থেকে ২০০০
টাকায় হয়ে যায়, সেখানে প্রিমিয়াম ফোনে সেটা ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা বা তারও
বেশি হতে পারে। কোথায় করাবেন-এই সিদ্ধান্তটা কিন্তু খরচের চেয়েও বেশি
গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে নিরাপদ হলো ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল সার্ভিস
সেন্টার-Samsung, Xiaomi, OPPO, Vivo সবারই ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে অনুমোদিত সেন্টার
আছে।
এখানে অরিজিনাল পার্টস ব্যবহার হয়, কাজের উপর ওয়ারেন্টিও পাওয়া যায়। একটু
বেশি খরচ হলেও মনে শান্তি থাকে। তবে অফিশিয়াল সেন্টার যদি কাছে না থাকে বা খরচ
বেশি মনে হয়, তাহলে পরিচিত কারো রেফারেন্সে একটা ভালো লোকাল দোকানেও করাতে
পারেন। কিন্তু যাওয়ার আগে একটা কাজ করুন-দুই বা তিনটা জায়গায় দাম জিজ্ঞেস
করুন, তুলনা করুন। আর যেখানেই করান, কাজ শেষে একটা রিসিট বা কাগজ নিয়ে নিন-এটা
পরে কাজে লাগতে পারে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
দেখুন, স্ক্রিনে সবুজ দাগ দেখে প্যানিক করার কিছু নেই। আগে ঠান্ডা মাথায় ধাপগুলো
একে একে ট্রাই করুন-রিস্টার্ট, সেফ মোড, আপডেট। অনেক সময় এই ছোট ছোট কাজগুলোই
বড় সমস্যার সমাধান করে দেয়। তাড়াহুড়ো করে সার্ভিস সেন্টারে দৌড়ানোর আগে নিজে
একটু চেষ্টা করুন-হয়তো অবাক হয়ে যাবেন। আর যদি সত্যিই হার্ডওয়্যারের সমস্যা
হয়, তাহলে সেটা মেনে নিয়ে সঠিক জায়গায় ঠিক করিয়ে নিন।
ফোন একটা দৈনন্দিন সঙ্গী-এটা ভালো রাখাটা আপনার দায়িত্ব। সস্তায় নকল পার্টস
দিয়ে ঠিক করাতে গিয়ে বড় ক্ষতি ডেকে আনবেন না। একটু বেশি খরচ হলেও সঠিক কাজটাই
করুন-দীর্ঘমেয়াদে এটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।



অর্ডিনারি সিসি’র নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url